রাজশাহীর পবা উপজেলায় নয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে এক জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের পাকারমাথা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় এই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত ওমর ফারুক জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি পেশায় একজন গ্রাম্য চিকিৎসক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওমর ফারুক পাকারমাথা এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসার পাশাপাশি নিজ বাড়ির সংলগ্ন একটি ফার্মেসি পরিচালনা করতেন। তিনি ও তার স্ত্রী বাড়িতে স্থানীয় শিশুদের প্রাইভেট পড়াতেন। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের দাবি, প্রায় ২২ দিন আগে প্রতিদিনের মতো ওমর ফারুকের কাছে পড়তে গেলে অন্য শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে ওই শিশুকে একা পেয়ে তিনি অনৈতিকভাবে স্পর্শ করেন। বাড়িতে ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি করে তার মাকে পুরো বিষয়টি জানায়।
শিশুর স্বজনদের অভিযোগ, বিষয়টি অভিযুক্তের বাবা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ক্বারী মজিবুর রহমানকে জানালে তিনি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দেন। ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
তবে অভিযুক্ত ওমর ফারুক ও তার পরিবার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। ফারুকের বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুটি তার স্ত্রীর কাছে পড়তে আসত। ঘটনার দিন তার স্ত্রী উপস্থিত না থাকায় তিনি পড়াতে বসলেও কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ করেননি। তার পরিবার দাবি করেছে, একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
ওমর ফারুকের সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত করে জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের আমির আব্দুর রহমান মিলন জানান, ওমর ফারুক তাদের সংগঠনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড রোকন পদে রয়েছেন। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত এবং সঠিক তদন্তের পর সত্য প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন জানান, শিশুর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত পরিচালনা করে ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।