নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় জমির সীমানায় থাকা একটি নারিকেল গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে কুড়ালের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের বড়চাপা পূর্বপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত মিজান মিয়া (৪৫) বড়চাপা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড়চাপা পূর্বপাড়া গ্রামের সফুর উদ্দিনের ছেলে। দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকার পর কয়েক বছর আগে দেশে ফিরে তিনি বড়চাপা বাজারে একটি মুদি দোকান স্থাপন করেন। পাশাপাশি তিনি ৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে একই এলাকার বাসিন্দা শহীদুল্লাহ ওরফে পিংকী (৬৫) এবং তার ছেলে জীবন মিয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহীদুল্লাহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সহসভাপতি।

নিহতের স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিজান মিয়া ও তার চাচা শহীদুল্লাহর মধ্যে বাড়ির পাশের রাস্তা ও জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এই সমস্যা সমাধানে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি। শনিবার দুপুরে রাস্তার পাশে থাকা একটি নারিকেল গাছ কাটতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। অভিযোগ করা হয়েছে যে, একপর্যায়ে সংঘর্ষের সময় জীবন মিয়া কুড়াল দিয়ে মিজান মিয়ার মাথায় আঘাত করেন।

আঘাতের ফলে গুরুতর আহত হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. খন্দকার আনিছুর রহমান বলেন, "মিজান মিয়াকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।"

ঘটনা প্রসঙ্গে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, "চাচা-ভাতিজার মধ্যে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"