অন্তর্বর্তী সরকারে এনসিপির নেতাদের অন্তর্ভুক্তির ফলে তাদের রাজনৈতিক অবদান ম্লান হয়ে গেছে বলে মনে করেন নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে হুদা বাবুল। সম্প্রতি মুক্তকণ্ঠের ধারাবাহিক অনুষ্ঠান 'আলাপনে' এসে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
ফজলে হুদা বাবুল বলেন, "জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার পরিবর্তে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখা উচিত ছিল।"
তার মতে, আন্দোলনকারীরা যদি উপদেষ্টা পরিষদে যোগ না দিয়ে স্বাধীনভাবে নির্বাচনে অংশ নিতেন, তবে রাজনীতিতে একটি নতুন ও স্থায়ী বন্দোবস্ত গড়ে তোলা সম্ভব হতো। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "এখন তারা ক্ষমতার অংশ হয়ে যাওয়ায় এবং প্রশাসনিক প্রটোকল গ্রহণ করায় আন্দোলনের সময়কার সেই আবেদন অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।"
তরুণ নেতৃত্বের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, "তরুণ নেতৃত্বকে ক্ষমতার ভাগ নেওয়ার পরিবর্তে রাষ্ট্র সংস্কার ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রশ্নে বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত ছিল।"
ফজলে হুদা বাবুলের মতে, এতে তারা সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতেন। তিনি মনে করেন, আন্দোলনের সময় তাদের যে ত্যাগ ও আদর্শিক অবস্থান ছিল, সরকারে যোগ দেওয়ার পর সাধারণ মানুষের একটি অংশের কাছে সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ধারণা তৈরি হয়েছে। ফলে আন্দোলনের সময় অর্জিত নৈতিক শক্তিও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, "গাড়িবহর বা প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ না করে রাজপথে থেকে রাজনীতি করলে তারা দেশের মানুষের কাছে আরও বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকতেন।"
সবশেষে তিনি উল্লেখ করেন, স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখলে তরুণ নেতৃত্বের প্রভাব ও আবেদন আরও শক্তিশালী হতো।