নোয়াখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের মুসলিম কলোনি সংযোগ সড়কে নোয়াখালী খালের ওপর নির্মিত একটি জরাজীর্ণ সাঁকো পার হয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষ। গত ৫০ বছরেও একটি স্থায়ী সেতু না পাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশ ও কাঠের তৈরি এই নড়বড়ে সাঁকোটিই হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার অন্যতম প্রধান নোয়াখালী খালের ওপর নির্মিত এই সাঁকোটির বিভিন্ন অংশ অত্যন্ত জরাজীর্ণ। কোথাও বাঁশ ক্ষয়ে গেছে, আবার কোথাও কাঠ আলগা হয়ে রয়েছে। একসঙ্গে কয়েকজন উঠলেই সাঁকোটি দুলতে থাকে। এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ দিয়েই প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ যাতায়াত করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যায়। বৃষ্টিতে সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে পড়লে প্রায়ই মানুষ খালে পড়ে যান। অতীতে শিক্ষার্থীদের বই-খাতাসহ খালে পড়ে যাওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে এবং অনেকে আহত হয়েছেন।
নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারিয়া ইবনাত বলেন, "প্রতিদিন এই সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। বর্ষাকালে খুব ভয় লাগে। সাঁকো ভিজে পিচ্ছিল হয়ে গেলে মনে হয় এই বুঝি পড়ে গেলাম। নিরাপদে চলাচলের জন্য দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।"
কাজী কলোনির বাসিন্দা হেমা আক্তার জানান, বাজার যাওয়া থেকে শুরু করে হাসপাতালে রোগী নেওয়া—সবকিছুর জন্যই এই সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হয়। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য এই পারাপার অত্যন্ত কষ্টকর। অনেক সময় মুমূর্ষু রোগীকে কোলে করে সাঁকো পার করতে হয়। বর্ষায় সাঁকোটি পানিতে ডুবে গেলে আড়াই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা ঘুরে শহরে যেতে হয় বলে জানান তিনি।
কাদির হানিফ বাজারের ব্যবসায়ী রুবেল বলেন, "ছোটবেলা থেকেই এই খালের ওপর বাঁশের সাঁকো দেখে আসছি। সময় বদলেছে, চারপাশে উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু আমাদের ভাগ্যে একটি সেতু জোটেনি। প্রতিদিন ২০-৩০ হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।"
এলাকাবাসীর মতে, এই সাঁকোটি কয়েকটি গ্রামের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের মূল সংযোগসূত্র। এখানে স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে।
এই বিষয়ে নোয়াখালী সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী আবুল মনছুর আহমেদ জানান, ১৫০ মিটার পর্যন্ত গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে সরকারি বিধি অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
অন্যদিকে, জেলা সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছি। যেকোনো একটি প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।"