নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে শনিবার সকাল পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বাদী হয়ে গত শুক্রবার বিকেলে বন্দর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বন্দর উপজেলার ঢাকেশ্বরী কবরস্থানের সামনে এই ঘটনা ঘটে। আলতাফ হোসেন তাঁর ছোট ভাই শাহাদাত হোসেনের কাগজের ব্যবসার ব্যাংকিং লেনদেনের দায়িত্ব পালন করেন। ওইদিন বিকেলে তিনি মদনপুরের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি শাখা থেকে শেখ ফারাজ পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেডের একটি চেকের বিপরীতে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। সঙ্গে থাকা আরও দেড় লাখ টাকাসহ মোট ১৮ লাখ টাকা নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ির পথে রওনা হন তিনি।
ঢাকেশ্বরী কবরস্থানের সামনে নেমে হেঁটে যাওয়ার সময় ডিবি পুলিশের পোশাকসদৃশ কোটি পরা তিন থেকে চারজন আলতাফের পথ রোধ করেন। নিজেদের ডিবি সদস্য পরিচয় দিয়ে তাঁরা দাবি করেন যে, আলতাফ হোসেনের নামে মামলা রয়েছে। তিনি এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে আলতাফ হোসেনের হাত, পা ও চোখ বেঁধে হাতকড়া পরিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর ব্যাগ থেকে ১৮ লাখ টাকা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর সোনারগাঁ উপজেলার দড়িকান্দি এলাকায় লাঙ্গলবন্দ সেতুর নিচে তাঁকে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া টাকা উদ্ধারে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, বন্দর এলাকাতেই সৌদি আরবগামী এক প্রবাসীকে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মারধর করে নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুটের অভিযোগ উঠেছে। রকিবুল হাসান নামের ওই ব্যক্তি গতকাল বিকেলে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। রকিবুল বন্দর উপজেলার পশ্চিম হাজীপুর এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া চারটার দিকে সৌদি আরবের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে পশ্চিম হাজীপুর জামে মসজিদের সামনে ভাড়া করা গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন রকিবুল। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা তিনজন ব্যক্তি তাঁকে ও তাঁর স্বজনদের আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশি অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করেন। এরপর তাঁদের মারধর করে পাসপোর্ট, টিকিট, প্রয়োজনীয় মালামালসহ ট্রাভেল ব্যাগ, ৯০০ সৌদি রিয়াল, ২ হাজার ৫০০ টাকা, একটি নাকফুল ও ৩টি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।"