চলমান গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধান করা না হলে দেশ অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ধাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। দলটির দাবি, সংকট নিরসনে সরকারের দেওয়া আশ্বাস ও বক্তব্যে সাধারণ মানুষ আস্থা পাচ্ছে না।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ‘তীব্র গ্যাস সংকটের প্রতিবাদ এবং দ্রুত পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের দাবিতে’ আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে নাঈম আহমাদ বলেন, "গ্যাস দেশের শিল্প, কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে এবং কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়ছে। এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে দেশের অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়তে পারে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ঋণের সুদ মওকুফ বা স্থগিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রণোদনা প্রদান করতে হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না করে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ব্যাংক ঋণের সুদ পরিশোধে বাধ্য করা অন্যায্য। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় উদ্যোক্তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।"

গার্মেন্টস খাতের নারী শ্রমিকদের কষ্টের কথা তুলে ধরে নাঈম আহমাদ বলেন, "অনেক শ্রমিক সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা, কখনও মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করার পর বাসায় ফিরে রান্না করতে গিয়ে গ্যাস পান না। আবার ভোরেই কাজে যেতে হয়। নিম্ন আয়ের হওয়ায় বাইরে থেকে খাবার কিনে খাওয়াও তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে গ্যাস সংকট সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে ফেলেছে নিম্ন আয়ের নারী শ্রমিকদের।"

কৃষি খাতের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বলেন, "সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া এবং সার উৎপাদনে সমস্যা দেখা দিলে খাদ্য উৎপাদনও হুমকির মুখে পড়বে। গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে কৃষি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে, যার প্রভাব পড়বে খাদ্য নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতির ওপর।"

মানববন্ধনে উপস্থিত জেডিপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম বলেন, "গ্যাস সংকটের কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, তা গণবিক্ষোভে রূপ নেওয়ার আগেই সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।"

অন্যদিকে, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া বলেন, "আমাদের পায়ের নিচে গ্যাস আছে, মাথার ওপর সূর্য আছে। এখন পর্যন্ত কোনো সরকারই আমাদের এ সম্পদগুলো ব্যবহারের প্রকৃত উদ্যোগ নেননি। এ সরকার প্রথমবারের মতো নামকাওয়াস্তে হলেও সোলার বিদ্যুতের কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। এটা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট না। সরকারের উচিত ছিল, প্রান্তিক পর্যায়ে সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহারের পথ সুগম করা, নেট মিটারিং ব্যবস্থা সহজ করা, বাড়তি বিদ্যুৎ বেশি দামে কেনার উদ্যোগ নেওয়া, সাগরে এবং ভুখণ্ডে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া।"

দিদার ভূঁইয়া অভিযোগ করেন যে, সরকার বিদেশ থেকে বেশি দামে জ্বালানি আমদানির দিকেই বেশি মনোযোগী।

উক্ত মানববন্ধনে আরও বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় ছাত্রমঞ্চের প্রধান সংগঠক সালমান শরীফ, জেডিপির প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান হোসেন রাহাত, নির্বাহী পরিষদের সদস্য রাকিবুল মিলন ও আরিফুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ইয়াসিন আরাফাত রাজ, মাহতাব হোসেন সাব্বির, ইঞ্জিনিয়ার আইমান আন্দালিব এবং নাঈম আল ইসলাম।