বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রির উদ্যোগে উয়েফার পর এবার বড় ধাক্কা খেল ফিফা। এশিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এএফসি শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই বিষয়ে উয়েফা ও কনকাক্যাফের পাশে আছে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উদ্যোগে গড়ে ওঠা ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ বা এফএফই নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এশিয়ার ফুটবল সংস্থাটি।
ইউরোপের মতো সরাসরি বয়কটের হুমকি না দিলেও এএফসি তাদের বিবৃতিতে লিখেছে, ‘বিশ্বকাপ বর্জনের বাস্তব সম্ভাবনা যে জনসমক্ষে আলোচিত হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা প্রত্যেকের জন্য উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত।’ সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, ‘ফুটবলের কখনোই এমন অবস্থানে পৌঁছানো উচিত ছিল না’।
এর আগে বৃহস্পতিবার এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা সদস্য সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রস্তাবটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন। শুক্রবারের বিবৃতিতে এএফসি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এফএফই এমন এক কাঠামো, যা ‘বাস্তবসম্মতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যাপক ঐকমত্য অর্জন করতে পারবে না’। সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও ফিফার ‘পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার মৌলিক দুর্বলতা’র কথা বলে পরোক্ষভাবে ইনফান্তিনোর দিকেই ইঙ্গিত করেছে সংস্থাটি।
এদিকে এই টানাপোড়েনের মাঝে ফিফা প্রেসিডেন্টের সিনিয়র উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো শুক্রবার এই বিক্রয় পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন। সাবেক ব্যাংকার ও যুক্তরাষ্ট্র সকার ফেডারেশনের সাবেক সহসভাপতি কর্দেইরোকে বিশ্ব ফুটবলের প্রবৃদ্ধিতে সহায়তার জন্য ইনফান্তিনো নিজেই নিয়োগ করেছিলেন। পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে কর্দেইরো বলেন, তিনি ‘চুপ করে বসে থাকতে পারেন না, যখন ফিফা বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বিক্রির কথা ভাবছে।’
নিজের বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রস্তাবে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না, এবং আমি এর সম্পূর্ণ বিরোধিতা করি’। কর্দেইরোর প্রশ্ন, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ফিফা ১৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে এবং তাদের কোনো ঋণ নেই ও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রিজার্ভে রয়েছে; এমতাবস্থায় সংস্থাটির ‘সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের’ অংশ বিক্রি করে মাত্র ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার তোলার যুক্তি কোথায়?
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, পরিকল্পনা প্রত্যাহার না হলে তারা ফিফার সব আয়োজন বয়কট করবে। উত্তর-মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের সংস্থা কনকাক্যাফও এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। উয়েফার হুমকি, কনকাক্যাফের প্রত্যাখ্যান, এএফসির উদ্বেগ এবং ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টার পদত্যাগের ফলে ফিফার এই পরিকল্পনা এখন বড় অনিশ্চয়তার মুখে।