সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় একটি ঈদগাহ মাঠের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের ফলে প্রায় ৪০টি পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই সংকটের বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন এলাকায় এই ৪০টি পরিবার বসবাস করে। দীর্ঘ সময় ধরে তারা ঈদগাহ মাঠের পাশের রাস্তাটি যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করে আসছিলেন। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন, অসুস্থ রোগী স্থানান্তর এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতসহ দৈনন্দিন সব কাজেই এই পথটি ছিল তাদের প্রধান মাধ্যম।

সম্প্রতি স্থানীয় গ্রামপ্রধানের উদ্যোগে ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ শুরু হয়। তবে প্রাচীরটি নির্মাণের ফলে চলাচলের পথটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই এলাকার বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে শাহ আলম, জমিনা খাতুন ও লাইলী খাতুন বলেন, "ঈদগাহ মাঠের উন্নয়ন ও প্রাচীর নির্মাণে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে একমাত্র চলাচলের পথটি বন্ধ করে দিলে তারা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়বেন। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, রোগী পরিবহনসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে।"

এই সমস্যার সমাধানে ৪০টি পরিবারের স্বাক্ষর সংবলিত একটি লিখিত অভিযোগ ইউএনওর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মনোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গ্রামপ্রধান রফিক হোসেন জানান, ঈদগাহ মাঠে কুকুরের অবাধ বিচরণ ও নোংরা করার কারণে মাঠের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রায় এক মাস আগে প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। অভিযোগকারী পরিবারগুলোর চলাচলের জন্য বিকল্প একটি রাস্তা রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

রফিক হোসেন আরও বলেন, "অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই মাঠের এক পাশের প্রাচীর নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী রোববার ইউএনও সরেজমিনে এসে মাপজোক ও তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দেবেন।"

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, "এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"