জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও প্রাপ্য সম্মান প্রদানের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর মতে, শহীদরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নন, বরং তারা সমগ্র জাতির সম্পদ। এই স্বীকৃতি ও সম্মান নিশ্চিত না হলে দেশ ও জাতির কাঙ্ক্ষিত মুক্তি আসবে না বলে তিনি মনে করেন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "অনেকে বলেন আমাদের দলের এতজন শহীদ হয়েছেন। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী একবারের জন্যও বলেনি যে আমাদের এতজন শহীদ হয়েছেন। আমরা প্রতিটি শহীদকে সম্মান করি। জাতির সম্পদ হিসেবে তারা সবাই আমাদেরও সম্পদ।"

জুলাই বিপ্লবে আহতদের শারীরিক ও মানসিক কষ্টের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, "যারা পঙ্গু হয়েছেন, তারা এখনো শরীরে বুলেটের স্প্লিন্টার নিয়ে রাতে ঘুমাতে পারেন না, কাজকর্ম করতে পারছেন না। কিন্তু তাদের যেভাবে স্বীকৃতি ও সম্মান দেখানো উচিত, তা দেখানো হচ্ছে না। আমরা পরিষ্কারভাবে দাবি জানাই, অবশ্যই জুলাইয়ের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের তাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে।"

তিনি আরও মন্তব্য করেন, আহত ও শহীদদের যথাযোগ্য মূল্যায়ন করা হলে ভবিষ্যতে দেশে আরও বীর সন্তানের জন্ম হবে এবং এই জাতি বিশ্বের কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করবে না।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনরায়ের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে এবং নিজেদের জনগণের সরকার মনে করলে ৭০ শতাংশ মানুষের রায় অবশ্যই মানতে হবে। এই রায় অস্বীকার করার মানে হলো জনগণকে অপমান করা, যা বরদাস্ত করা হবে না।"

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের এই পরিবর্তন কোনো একক দলের অর্জনে হয়নি; এটি মহান আল্লাহর কুদরত। ক্ষমতার ভাগাভাগি বা স্বার্থের লড়াইয়ে না জড়িয়ে সবাইকে পরিশুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, "সৎ পথে চলুন, দুর্নীতি কঠোর হস্তে দমন করুন এবং চাঁদাবাজি নির্মূল করুন। কথা দিচ্ছি, আমরা ১৮ কোটি মানুষ আপনাদের সাহায্য করব। তবে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে চললে এ দেশের জনগণ কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না।"

উপস্থিত নেতাকর্মী ও দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জীবনে নিজে কোনো অন্যায় করবেন না এবং কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে বুক টান করে লড়েই জিততে হবে। দেশকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত ও কল্যাণমুখী করতে প্রয়োজনে আরও বড় ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।