জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় একটি কুকুরকে গলায় দড়ি দিয়ে বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার মাহমুদপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে প্রকাশ্যে এই নৃশংসতার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত রাজু সরকারকে আটক করা হলেও লিখিত মুচলেকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ২৩ জুলাই মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে বিদ্যালয়ের সামনের একটি গাছে কুকুরটিকে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রাণীপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, রাজু সরকারের ছাগলকে কামড় দেওয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে কুকুরটির ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়। তবে কুকুরের কামড়ে ছাগলটি মারা যায়নি বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা বলেন, "মেলান্দহ উপজেলায় একজন ব্যক্তি কুকুরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমরা সরাসরি সেখানে গিয়ে তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি এবং পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি। আমরা আশা করি এ ধরনের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডে কেউ জড়াবে না। মানুষ যেমন ভালোবাসার দাবিদার, তেমনি অবলা প্রাণীর প্রতিও মানবিক আচরণ করা উচিত।"
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্ত রাজু সরকার পলাতক হয়ে যান। তার বাড়িতে খোঁজ নেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি এবং পরিবারের সদস্যরাও তার অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তাকে খুঁজে বের করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির ছেলের বউ সানজানা আক্তার ঘটনার বিষয়ে বলেন, "কাজটা ভুল হয়ে গেছে। আগেও ছাগল মেরেছে, আজকে ছাগল মারলো, কালকে মুরগি খাচ্ছে। আবার মানুষেরও কামড় দিতে পারে। তাই রাগের মাথায় এমনটা হয়েছে।"
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা জানান, "মাহমুদপুর ইউনিয়নের একজন ব্যক্তি একটি প্রাণী হত্যা করেছে বলে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আমরা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি তার অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।"
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না—এই মর্মে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে প্রাণী সংরক্ষণ ও প্রাণী কল্যাণ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী কোনো প্রাণীর প্রতি অপ্রয়োজনীয় কষ্ট দেওয়া, নির্যাতন বা নিষ্ঠুর আচরণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই আইনে দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। একই অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে শাস্তির মেয়াদ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।