২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য ১২টি ভেন্যু চূড়ান্ত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরের ভেন্যুগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে ধরা হচ্ছে জিম্বাবুয়েতে নবনির্মিত ভিক্টোরিয়া ফলস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে।
জোহানেসবার্গে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে স্বাগতিক শহর ও ভেন্যুগুলোর পাশাপাশি টুর্নামেন্টের নতুন প্রতীক উন্মোচন করেছে আইসিসি। নির্ধারিত ভেন্যুগুলোর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার আটটি, জিম্বাবুয়েতে তিনটি এবং নামিবিয়ায় একটি মাঠে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার নির্বাচিত ভেন্যুগুলো হলো জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়াম, শোয়ানের সেঞ্চুরিয়ন, কেপটাউনের নিউল্যান্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড, ডারবানের কিংসমিড, গেবেরহার সেন্ট জর্জেস পার্ক, ব্লুমফন্টেইনের মাঙ্গাউং ওভাল, পার্লের বোল্যান্ড পার্ক এবং কুগোম্পো সিটির বাফেলো পার্ক।
জিম্বাবুয়েতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে হারারের হারারে স্পোর্টস ক্লাব, বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব এবং ভিক্টোরিয়া ফলসের ফালে মোসি-ওয়া-তুনিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ১০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই নতুন ফালে মোসি-ওয়া-তুনিয়া স্টেডিয়ামে চলতি বছরের শেষ দিকে ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বখ্যাত ভিক্টোরিয়া ফলসে ম্যাচ আয়োজন টুর্নামেন্টে বাড়তি আকর্ষণ যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, নামিবিয়ার একমাত্র ভেন্যু হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে রাজধানী উইন্ডহোকের নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ড। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সিনিয়র পর্যায়ের কোনো আইসিসি বিশ্ব আসরের আয়োজক হতে যাচ্ছে দেশটি।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে কেনিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে। সেই হিসেবে দীর্ঘ ২৪ বছর পর আফ্রিকা মহাদেশে ফিরছে ছেলেদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ।
এই প্রসঙ্গে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ বলেছেন, "স্বাগতিক শহর ও টুর্নামেন্টের প্রতীক প্রকাশ বিশ্বকাপ আয়োজনের পথে গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক।" তার মতে, "২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপের প্রত্যাবর্তন ক্রিকেটের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত।"
২০২৭ বিশ্বকাপে মোট ১৪টি দল অংশ নেবে এবং নতুন তিন ধাপের প্রতিযোগিতা কাঠামোর অধীনে মোট ৫৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। অক্টোবর ও নভেম্বরে টুর্নামেন্টটি আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও আইসিসি এখনো ম্যাচের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেনি।
বিশ্বকাপের এবারের মূল ভাবনা নির্ধারণ করা হয়েছে ‘তিন দেশ, এক হৃদস্পন্দন’। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার সংস্কৃতি, বৈচিত্র্য এবং ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসাকে কেন্দ্র করেই টুর্নামেন্টটি আয়োজনের কথা জানিয়েছে আইসিসি।