ইতালির দেখানো পথ অনুসরণ করে ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে গ্রিস। বংশসূত্রে ইতালীয় অথচ অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া ক্রিকেটারদের নিয়ে ইতালির সাম্প্রতিক সাফল্য গ্রিসকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালকে ১০ উইকেটে হারানোর চমক গ্রিসের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গ্রিসে ক্রিকেটের ইতিহাস বেশ পুরনো, বিশেষ করে কোর্ফু দ্বীপে দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই খেলা প্রচলিত। তবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে এখন বড় ভরসা হিসেবে দেখছে অস্ট্রেলিয়াকে, যেখানে চার লাখের বেশি গ্রিক বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করেন। হেলেনিক ক্রিকেট ফেডারেশন (এইচসিএফ) সেখান থেকেই প্রতিভাবান ক্রিকেটার খুঁজছে।

ইতালির মডেল অনুসরণ করে অস্ট্রেলীয়-গ্রিক ক্রিকেটারদের মাধ্যমে দল শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তাদের। এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট তারকা স্যাম কনস্টাসের বড় ভাই বিলি কনস্টাস। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরির বয়সভিত্তিক দলে খেলা তরুণ ব্লেক ফন্সও রয়েছেন এই পরিকল্পনায়।

আগামী ১৪ থেকে ২১ আগস্ট ফিনল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১০ দলের ইউরোপীয় সাব-রিজিওনাল কোয়ালিফায়ার ‘সি’, যা ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম ধাপ। গ্রিসের প্রাথমিক ১৪ সদস্যের দলে সবচেয়ে আলোচিত নাম ২৪ বছর বয়সী বিলি কনস্টাস। সিডনিতে বসবাসকারী এই ক্রিকেটার স্থানীয় ক্লাব ক্রিকেটের পাশাপাশি কোচিং এবং ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবেও কর্মরত। তাঁর ছোট ভাই স্যাম কনস্টাস মাত্র ১৯ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে অভিষেক ঘটিয়েছিলেন এবং ২০২৪ সালের বক্সিং ডে টেস্টে ভারতের বিপক্ষে আলোড়ন তৈরি করেছিলেন, যদিও বর্তমানে তিনি দলের বাইরে আছেন।

ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে দলে রাখা হয়েছে ২১ বছর বয়সী লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার ব্লেক ফন্সকে। এছাড়া এইচসিএফ-এর নজরে আছেন ২৭ বছর বয়সী লেগ-স্পিনার পিটার হ্যাটজোলু, যিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি, দ্য হানড্রেড, বিগ ব্যাশ লিগ এবং পাকিস্তান সুপার লিগে অভিজ্ঞ।

প্রাথমিক স্কোয়াডের বাইরেও আরও কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত অস্ট্রেলীয়-গ্রিক ক্রিকেটারের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে এইচসিএফ। তাদের মধ্যে অন্যতম ২৬ বছর বয়সী ব্লেক নিকিতারাস, যিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট এবং সিডনি থান্ডারের হয়ে বিগ ব্যাশ লিগে খেলেছেন। ব্লেকের বাবা স্টিভ নিকিতারাসও একসময় পেশাদার ক্রিকেটে গ্রিসের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তবে ফিনল্যান্ডের টুর্নামেন্টে নিকিতারাস ও হ্যাটজোলুর অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত নয়।

ইতালির সাফল্য থেকে শিক্ষা নিলেও গ্রিস পুরোপুরি প্রবাসীনির্ভর দল গড়তে চায় না। স্থানীয় ক্রিকেট এবং প্রবাসী প্রতিভার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য। বিবিসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্রিক ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা দেশের ক্রিকেট ঐতিহ্য এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা গ্রিক বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতার মেলবন্ধনে নতুন দল গড়তে চান। এই কৌশলের অংশ হিসেবে ফিনল্যান্ড সফরের স্কোয়াডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ খেলোয়াড়ই গ্রিসে জন্মগ্রহণকারী।

অস্ট্রেলীয় সংযোগের পাশাপাশি দলে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্যের ক্লাব ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা। ইয়র্কশায়ারে ক্লাব ক্রিকেট খেলা দিমিট্রিওস ত্রায়ান্ডাফিলিথিস এবং ক্রিস্টোদুলোস বোগদানোস রয়েছেন প্রাথমিক দলে।

তবে বিশ্বকাপের পথে গ্রিসের চ্যালেঞ্জ অনেক। ফিনল্যান্ডের কোয়ালিফায়ারে তাদের গ্রুপে রয়েছে ইউরোপীয় ক্রিকেটের শক্তিশালী দল জার্মানি, যারা গ্রুপের ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত। একই গ্রুপে আছে পর্তুগাল, যারা দল শক্তিশালী করতে অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা ময়েজেস হেনরিকেসকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।