হবিগঞ্জে ট্রাক দিয়ে সড়ক অবরোধ এবং সিলেটের গোলাপগঞ্জে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলার ঘটনাকে পতিত আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি হিসেবে অভিহিত করেছে সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য এক অশনিসংকেত।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় নগরীর বন্দরবাজারে সিলেট মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ে এক শুরা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, "হবিগঞ্জে ট্রাক দিয়ে সড়ক অবরোধ এবং গোলাপগঞ্জে বিরোধী মতের কর্মসূচিতে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনা আওয়ামী লীগের শাসনামলের রাজনৈতিক সহিংসতার কথা মনে করিয়ে দেয়। এ ধরনের রাজনীতি জনগণ মেনে নেবে না এবং এর পরিণতিও ভালো হবে না।"

সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, "সরকার রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দিয়ে একদলীয় শাসনের দিকে এগোচ্ছে। এমনকি নির্বাচন কমিশনের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানেও দলীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।"

রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের নীতি থেকে সরে আসতে হবে। অন্যথায় জনগণ এর জবাব দেবে।"

বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নিন্দা জানান। একই সঙ্গে প্রশাসনে নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। এছাড়া সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়।

মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জামায়াতের সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, মহানগর নায়েবে আমির হাফিজ মিফতাহুদ্দীন ও ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব ও জাহেদুর রহমান চৌধুরীসহ মহানগর শুরা সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।