রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে (মাহিন) মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজশাহীর আদালতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা এই নালিশি মামলাটি দায়ের করেন।

অভিযোগকারী এম এস আসাদ উজ জামানের আইনজীবী হযরত আলী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "আদালত অভিযোগটি আমলে নেননি। তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে পাঠিয়েছেন।"

মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে সালাহউদ্দিন আম্মার ছাড়াও রয়েছেন পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও রাকসুর এজিএস এস এম সালমান সাব্বির (২৬), রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব (২৪), সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব (২৭), প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা (২৬), ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম (২৪), শহীদ হবিবুর রহমান হল সংসদের ভিপি আহসান উল্লা ফারহান (২২), রাকসুর সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিফাত আবু সালেহ (২৪) এবং নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের জিএস নুরুল ইসলাম শহীদের (২৬)। এছাড়া আরও ১৭-১৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী মাহমুদুল হাসান (মাহিন) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। আরজিতে দাবি করা হয়েছে, গত সোমবার দুপুরে মাহমুদুল হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯–২০ জন দুষ্কৃতকারী দেশি অস্ত্র যেমন— ছোরা, রামদা, লোহার রড, বেলচা ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁকে ঘিরে ধরে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। অভিযোগ করা হয়েছে, ১ নম্বর আসামি সালাহউদ্দিন আম্মার লোহার রড দিয়ে মাহমুদুলের মাথায় ও কপালে পরপর তিনবার আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। অন্য আসামিরাও রড ও লাঠি দিয়ে তাঁর চোখ, বুক, পিঠ ও শরীরে আঘাত করেন। এমনকি তাঁকে মাটিতে ফেলে বুকে ও গলায় চেপে ধরে শ্বাস রোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁকে মৃত ভেবে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় নড়েচড়ে উঠলে আসামিরা পুনরায় তাঁকে নামিয়ে মারধর করেন। এরপর তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এম এস আসাদ উজ জামান আরজিতে জানিয়েছেন, ঘটনার পরদিন মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে থানার অফিসার ইনচার্জ মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এই কারণে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়ে নালিশি আবেদনটি করেছেন।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার পর মাহমুদুল ও আরেক শিক্ষার্থী আনাসকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নগরের শাহ মখদুম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া পূর্বের একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের নির্দেশে বর্তমানে তাঁরা কারাগারে অবস্থান করছেন।