ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে খুলনা থেকে রাজশাহীগামী সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস (আপ) ট্রেনের লোকোমাস্টার বা চালক রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় ট্রেনটি আটকে থাকে। প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট পর লোকোমাস্টারের প্রত্যাবর্তনের পর ট্রেনটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস (১৬১ আপ) মোবারকগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছায়। নিয়ম অনুযায়ী দুই মিনিটের যাত্রাবিরতির পর ট্রেন ছাড়ার সংকেত দেওয়া হলেও সেটি আর নড়ে না। পরে দেখা যায়, ইঞ্জিনের দরজা বন্ধ এবং ইঞ্জিনটি অচল অবস্থায় রয়েছে, আর সেখানে লোকোমাস্টার উপস্থিত নেই।
সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে লোকোমাস্টার মাহবুবুর রহমান স্টেশনে ফিরে আসেন। সাংবাদিকরা তার অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ইঞ্জিন চালু করেন এবং ট্রেনটি ছেড়ে দেন।
ট্রেনটির গার্ড শফিকুল ইসলাম জানান, "খুলনা থেকে ট্রেন নিয়ে নির্ধারিত সময়েই মোবারকগঞ্জে পৌঁছাই। স্টেশন থেকে ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার পরও ট্রেন না ছাড়ায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, লোকোমাস্টার ইঞ্জিনে নেই। তিনি কেন চলে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।"
মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের মাস্টার শাহজাহান আলী বলেন, "সাগরদাঁড়ি ১৬১ আপ ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে স্টেশনে আসে। নির্ধারিত সময় শেষে ট্রেন ছাড়ার সংকেত দেওয়া হলেও লোকোমাস্টারকে ইঞ্জিনে পাওয়া যায়নি। ইঞ্জিনের দরজা বন্ধ ছিল এবং ইঞ্জিনও বন্ধ অবস্থায় ছিল। এরপর তাকে খোঁজাখুঁজি করা হয়। এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর তিনি ফিরে এলে ট্রেনটি পুনরায় যাত্রা শুরু করে।"
ট্রেনটি দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। খুলনা থেকে ট্রেনে ওঠা বাপ্পি নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, "শুক্রবার রাজশাহীতে আমার বিএসসি পরীক্ষা। আজ নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি।"