সুনামগঞ্জে এক আইনজীবীকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা দ্রুত বিচার মামলার আসামিদের জামিন দেওয়ায় এজলাসে বিচারকের সামনে আইনজীবীদের হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সুনামগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৫ম তলায় দ্রুত বিচার আদালতে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আইনজীবী শাহ আলম তুলিপের করা দ্রুত বিচার মামলার আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক মো. নুরুল হক। জামিন দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন উপস্থিত আইনজীবীরা। একপর্যায়ে এজলাসের ভেতরে বিচারকের সামনে হট্টগোল শুরু হলে আইনজীবীরা আদালত ত্যাগ করেন। পরিস্থিতির মুখে বিচারক আদালত থেকে খাসখামরায় চলে যান। পরবর্তীতে দুপুর ২টার দিকে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য শাহ আলম তুলিপের বাড়ি দোয়ারাবাজার উপজেলার ট্যাংরাটিলা এলাকায়। প্রায় এক মাস আগে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন তিনি। এই ঘটনায় তিনি দ্রুত বিচার আদালতে আতাবুর রহমান ফারাজি, সাজিদুর রহমান ফারাজি ও সাব্বির আহমেদকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করার পর বৃহস্পতিবার তাদের জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল।

মামলার বাদী আইনজীবী শাহ আলম তুলিপ বলেন, "দ্রুত বিচার আইনের মামলায় আগে এই আদালতে কোনো আসামির জামিন হয়নি। একজন আইনজীবীকে মারধরের ঘটনায় করা মামলা ও জামিন অযোগ্য ধারায় জামিন দেওয়ার কারণে সহকর্মী সবাই কথা বলেছেন। শতাধিক আইনজীবী একসঙ্গে প্রতিবাদ করেছেন তাই হট্টগোলের মতো শুনিয়েছে। এর বেশি কিছু না, আমরা কোর্ট বর্জন করিনি। অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিকভাবে আদালত ত্যাগ করেছি।"

জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল হক জানান, বিচারকের সঙ্গে মারমুখী আচরণের কিছু হয়নি। আসামির জামিন দেওয়ায় সামান্য মনোমালিন্য হয়েছিল, যা পরে স্বাভাবিক হয়।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, "আমাদের একজন সহকর্মীকে মারধরের ঘটনায় দ্রুত বিচার মামলায় আসামির জামিন দেওয়ায় সময় আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করেছেন। এর চেয়ে বেশি কিছু ঘটেনি।"

এই পুরো বিষয়টি নিয়ে আগামী রোববার একটি জরুরি বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শেরেনুর আলী।