সিলেটের গোলাপগঞ্জে হামলার ঘটনার পর অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বঘোষিত কানাইঘাট পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শুরুতে নেতারা সিলেট সার্কিট হাউসে ফিরে যাওয়ার কথা বিবেচনা করলেও পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। এরপর দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেট শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কানাইঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে পৌর গেটের সামনের সড়কে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়ির কাচ ভেঙে গেলেও কেউ আহত হননি।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে সিলেট জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক জানান, "সড়ক দিয়ে গাড়ি যাওয়ার সময় পাশ থেকে কেউ ঢিল মারে, এতে সারজিস আলমের গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়।"

পুরো ঘটনাটিকে গাড়িবহরে হামলা হিসেবে দেখছেন না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "এ ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন বলে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।"

অন্যদিকে, গোলাপগঞ্জের ঘটনার পর কানাইঘাটে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের অবস্থানের ফলে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিকেলে উপজেলা সদরে পাল্টা অবস্থান নেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তবে বিএনপি ও জামায়াতের জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং নিয়ন্ত্রণে আসে।

পূর্বনির্ধারিত সময় বিকেল তিনটায় পদযাত্রা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শুরু হয়। বর্তমানে সভাস্থলে স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য চলছে, যেখানে শত শত নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী উপস্থিত হয়েছেন।

কানাইঘাটের এই সভা শেষ করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা পরবর্তী কর্মসূচি অনুযায়ী ওসমানীনগরের পদযাত্রায় অংশ নেবেন।