বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম প্রতি লিটারে ৮ টাকা ৭১ পয়সা কমানো হয়েছে। এর ফলে তেলচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন খরচ কিছুটা হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার ফার্নেস তেলের দাম ১০৯ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমিয়ে ১০০ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, গত মাসেও প্রতি লিটারে দাম ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা থেকে কমিয়ে ১০৯ টাকা ১০ পয়সা করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিশন সভায় ৩০ জুন থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত সময়ে আমদানি করা ফার্নেস তেলের দাম এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার বিবেচনায় মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।"
এর আগে ফার্নেস তেলের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ওপর। তবে অন্তর্বর্তী সরকার এই ক্ষমতা বিইআরসির হাতে অর্পণ করার পর গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো সংস্থাটি দাম ঘোষণা করে। এবার পঞ্চমবারের মতো ফার্নেস তেলের দাম সমন্বয় করা হলো।
বিপিসির অধীনস্থ সরকারি চারটি তেল বিপণন কোম্পানি—পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক ওয়েল নতুন নির্ধারিত দামে ফার্নেস তেল বিক্রি করবে। এই তেলের প্রধান গ্রাহক সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।
২০২৪ সালের ২ আগস্ট সরকারের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সবশেষ ফার্নেস তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা বিইআরসির কাছে হস্তান্তর করে। গত বছরের ২০ জানুয়ারি বিইআরসির কাছে দাম নির্ধারণের প্রস্তাব পাঠায় বিপিসি এবং পরবর্তীতে চারটি তেল বিপণন কোম্পানিও একই ধরনের প্রস্তাব প্রদান করে। এক বছর পর গত ২৯ জানুয়ারি বিইআরসি এই প্রস্তাবের বিষয়ে গণশুনানি সম্পন্ন করে।