সৌদি আরবের আকর্ষণীয় চুক্তির লোভে তিন বছর আগে ইতালির জাতীয় দলের কোচিং পদের বিসর্জন দিয়েছিলেন রবার্তো মানচিনি। তবে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সেই একই দায়িত্ব ফিরে পেয়ে নিজের পূর্বের সিদ্ধান্তের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন ৬১ বছর বয়সী এই কোচ।
নিজের অনুশোচনা ব্যক্ত করে মানচিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই দুঃখিত। এটা যেন নিজের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় নারীকে হারানোর মতো অনুভূতি। এর অর্থ হচ্ছে, আপনি এমন একটি কাজ করেছেন, যা করা উচিত ছিল না। তাই আমি দুঃখিত, খুবই দুঃখিত। গত তিন বছরে যা কিছু ঘটেছে, সেসবের জন্যও আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এখন আমি চেষ্টা করব ইতালি জাতীয় দলকে আবারও তার প্রাপ্য অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে।’
২০২১ সালে মানচিনির কোচিংয়েই ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করেছিল ইতালি। তবে ২০২৩ সালের আগস্টে তিনি পদত্যাগ করেন এবং মাত্র দুই সপ্তাহ পর সৌদি আরবের জাতীয় দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি স্বীকার করেন, ‘পুরো দোষটাই আমার ছিল।’ ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি গাব্রিয়েলে গ্রাভিনার সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ না রাখাকেই তিনি নিজের বড় ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সম্প্রতি ইতালির ফুটবল অঙ্গনে অস্থিরতা দেখা দেয়। বিশ্বকাপের জন্য টানা তৃতীয়বারের মতো যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয় দেশটি। গত এপ্রিলে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে প্লে-অফে হারের পর ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি গাব্রিয়েলে গ্রাভিনা এবং প্রধান কোচ জেন্নারো গাত্তুসো পদত্যাগ করেন। এরপরই পুনরায় মানচিনিকে ফিরিয়ে আনে ফেডারেশন।
তবে মানচিনি শুরুতেই বোর্ডের প্রথম পছন্দ ছিলেন না। কার্লো আনচেলত্তি ও পেপ গার্দিওলা দায়িত্ব নিতে রাজি না হওয়ায় বোর্ড আন্দ্রেয়া পিরলোর দিকে ঝুঁকেছিল। কিন্তু রাশিয়ার একটি বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্পনসরশিপ চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়ায় শেষ মুহূর্তে পিরলোর নাম বাদ পড়ে। এরপরই দৃশ্যপটে ফেরেন মানচিনি।
সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে মানচিনি বলেন, ‘আমি জানি, অনেকেই আমার বিরুদ্ধে থাকবেন। তবে আশা করি দল ভালো খেলবে। হয়তো তখন মানুষ আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’
ইতালির কোচ হিসেবে মানচিনির দ্বিতীয় মেয়াদের অভিষেক হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর। উয়েফা নেশনস লিগে রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোতে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ইতালি। এখন দেখার বিষয়, আগের মেয়াদের সেই সাফল্য তিনি আবারও ফিরিয়ে আনতে পারেন কি না।