মিরপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রশ্ন-উত্তর পর্ব শুরুর আগেই উপস্থিত সবার দিকে কথা বাড়িয়ে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজকে ঘিরে গণমাধ্যমের প্রত্যাশা কী—এমন প্রশ্নই প্রথমে নিজের দিকে টেনে নেন তিনি।

একজন সাংবাদিকের উত্তরে আসে ‘ভালো খেলা…।’—এ কথা শুনে নাজমুল সঙ্গে সঙ্গে রসিকতা করে বলেন, ‘আমি এমন কথা বললে পছন্দ হতো?’।

এরপর এক সাংবাদিক বলেন, ‘সুমন ভাই (প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার) বলে গেছেন, সম্মান নিয়ে ফিরতে চান।’ কথাটি তখন নাজমুলের পছন্দ হয়। এরপর মিনিট পনেরোর মধ্যে প্রশ্ন-উত্তর পর্বের মূল অংশ শুরু হয়। চোট ও সিরিজ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় ঘুরে দাঁড়ায় আলোচনায়। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে তাঁর প্রত্যাশা নিয়েও প্রশ্ন করা হয় অধিনায়কের কাছে।

প্রতিটা ম্যাচই জেতার জন্য খেলি। তবে আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং ওদের কতটুকু কঠিন সময় দিতে পারি, এই জিনিসটা গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা এমন দুইটা ম্যাচ খেলতে পারি, ভবিষ্যতে দেখা যাবে আরও বেশি বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি।
নাজমুল হোসেন, অধিনায়ক, বাংলাদেশ
.

সিরিজ–পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মিরপুরে নাজমুল বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে কীভাবে আমরা ওখানে ভালো ক্রিকেট খেলে সম্মান অর্জন করতে পারি। ওখানে যদি আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে পারি, অবশ্যই তারা আবার ভবিষ্যতে (খেলার জন্য) আমন্ত্রণ জানাবে।’

তারপর তিনি যোগ করেন, ‘প্রতিটা ম্যাচই জেতার জন্য খেলি। তবে আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং ওদের কতটুকু কঠিন সময় দিতে পারি, এই জিনিসটা গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা এমন দুইটা ম্যাচ খেলতে পারি, ভবিষ্যতে দেখা যাবে আরও বেশি বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি।’

অস্ট্রেলিয়া সফরটি বাংলাদেশের জন্যও দীর্ঘ অপেক্ষার পরের অধ্যায়। সর্বশেষ ২০০৩ সালে সেখানে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। ২৩ বছর পর আগামীকাল রাতে আবার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজের এই সংস্করণে খেলতে যাচ্ছে তারা। এ সময়ে কয়েকটি প্রজন্মই অস্ট্রেলিয়ায় কোনো টেস্ট না খেলেই তাঁদের ক্যারিয়ার শেষ করেছেন—এমন বাস্তবতাও আছে।

২০ বছর আর ১০০-র বেশি টেস্টের ক্যারিয়ারে মুশফিকুর রহিমও এখনো অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে পারেননি।

এদিকে হ্যাজলউডের প্রসঙ্গ টেনে নাজমুল বলেন, এমন সিরিজে নেতৃত্ব দেওয়ার রোমাঞ্চও আছে তাঁর। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, খুবই ভাগ্যবান অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তাদের সঙ্গে টেস্ট খেলতে পারছি। গত ২৩ বছরে আমাদের আরও বেশি ম্যাচ খেলা উচিত ছিল, যদিও আমরা টেস্টে (এত দিন) ভালো ক্রিকেট খেলিনি।’

নাজমুল এটাও স্পষ্ট করে দেন যে টেস্টে এখন বাংলাদেশের প্রতি সমীহ-জাগানিয়া প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, এবং গত কয়েক বছরে নিয়মিতভাবেই জয় আসছে। ফলে এই সংস্করণে প্রত্যাশাও বেড়েছে সবার। নাজমুল বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।

তিনি বলেন, ‘একটা ভালো জিনিস যে আমাদের দর্শকেরা প্রতিটা সিরিজে অনেক প্রত্যাশা করে। তারা আশা করে আমরা প্রতিটা ম্যাচ জিতব, এটা একটা ইতিবাচক দিক। ২৩ বছর আগে হয়তো এই জিনিসটা ছিল না। আমি যদি অর্জনের কথা বলি তাহলে এটা একটা ভালো অর্জন যে এখন বাংলাদেশের মানুষ যেকোনো দলের বিপক্ষে জেতার কথা চিন্তা করে।’