মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় খোলাবাজারে সরকারি ধানবীজ বিক্রির সময় অভিযান চালিয়ে ২৪ বস্তা আমনের ব্রি-৫১ জাতের ধানবীজ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই ঘটনায় এক বিক্রেতাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা প্রতিটি বস্তায় ১০ কেজি করে বীজ ছিল।
গতকাল বুধবার রাত নয়টার দিকে উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের চৌধুরী বাজার এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি কুলাউড়া পৌর এলাকার বাসিন্দা মো. জামাল মিয়া (৪০)। জানা গেছে, জব্দ করা বীজগুলো রাজশাহী অঞ্চলে বিক্রির জন্য সরবরাহ করা হয়েছিল।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খোলাবাজারে সরকারি ধানবীজ বিক্রি হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাসের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে জামাল মিয়ার কাছে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ২৪ বস্তা বীজ পাওয়া যায়, যার বস্তায় ‘রাজশাহী অঞ্চল’ লেখা ছিল। পরবর্তীতে বীজগুলো জব্দ করে জামাল মিয়াকে সাজা দেওয়া হয় এবং বীজগুলো উপজেলা কৃষি কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। অভিযানে কুলাউড়া থানা-পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস বলেন, "প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জামাল মিয়া জানান যে নিজাম ট্রেডার্স নামে কুলাউড়া পৌর শহরের উত্তর বাজার এলাকার সরকারি ডিলারের কাছ থেকে তিনি এসব বীজ কেনেন। রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে নিজাম ট্রেডার্স বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে ডিলারের গুদাম পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।"
এই বিষয়ে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও ডিলার নিজাম ট্রেডার্সের মালিক নিজাম মিয়ার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "তদন্ত করে এ ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে মৌলভীবাজারের কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ জহিরুল ইসলাম।
অন্যদিকে, অনেক সময় দেশের এক অঞ্চলের বীজ অন্য অঞ্চলের আঞ্চলিক গুদামে যায় জানিয়ে কুলাউড়ায় দায়িত্বে থাকা বিএডিসির উপসহকারী পরিচালক মতিলাল ধর বলেন, "ডিলার সিলেটের আঞ্চলিক গুদাম থেকে ওই বীজ কিনেছেন কি না, তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।"