তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই না করেই হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আজ বুধবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড বজায় রাখতে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, আইনের শাসন ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দী করার পাশাপাশি অতীতের অধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউ-এর এই প্রতিবেদনটি দেখার পর চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, "ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন অথবা তদন্ত সংস্থার কোনো কর্মকর্তার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই। বরং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অথবা অন্য যেসব সংস্থা প্রতিবেদন দেয়, তাদের প্রতিবেদন নিয়ে প্রসিকিউশনের প্রশ্ন আছে, সংস্থাগুলো পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন দিচ্ছে। তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই না করে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে সংস্থাগুলো এ–জাতীয় প্রতিবেদন দিচ্ছে।"

ট্রাইব্যুনালের জনবল সম্পর্কে তিনি জানান, এখানে ২০ জন প্রসিকিউটর এবং ২৪ জন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োজিত আছেন। তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা সবাই জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের, যাদের মধ্যে দুজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন। প্রসিকিউশন দলের সবাই অভিজ্ঞ আইনজীবী। আমিনুল ইসলাম জানান, তাঁর ৩৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং প্রসিকিউটরদের অধিকাংশেরই ২০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা আছে। মূলত ফৌজদারি বিশেষজ্ঞরাই এই দলে কাজ করছেন।

বিচারের আন্তর্জাতিক মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, "আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ দেশীয় আইন। দেশের আইনজীবী দ্বারাই এটা পরিচালিত হবে। দেশের বিচারক দ্বারাই এটা পরিচালিত হবে। দেশেই এটা পরিচালিত হবে।"\ এই প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "এখন কি বিদেশি জজ আর বিদেশি আইনজীবী দিয়ে আমি কাজ করাব?"

সাক্ষীদের বক্তব্যের সামঞ্জস্য নিয়ে এইচআরডব্লিউ-এর মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি ঘটনায় অনেকে শহীদ হলে স্বাভাবিকভাবেই সাক্ষীদের বক্তব্যে সামঞ্জস্য থাকতে পারে। সেখানে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলতে চেয়েছে, "সব কটি স্টেটমেন্ট একই রকম।" তাঁর মতে, বক্তব্য একই রকম হওয়াই স্বাভাবিক।

পরিশেষে তিনি মন্তব্য করেন, নির্দিষ্ট কোনো আসামির পক্ষে কথা বলে বা সাফাই গেয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ যদি এ ধরনের প্রতিবেদন তৈরি করে, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।