বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেওয়া ব্রাজিলের ফুটবল ভক্তদের প্রত্যাশার বিচারে এই ফলাফল ছিল চরম ব্যর্থতা। তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিদায়ের পর চারদিকে সমালোচনার ঝড় বইলেও কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপর আস্থা বজায় রেখেছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড নিজেও চান এই বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে। ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তরুণ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে নতুন করে দল গড়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
বিশ্বকাপ পরবর্তী ছুটি শেষে গত মঙ্গলবার রিও ডি জেনিরোতে পৌঁছান আনচেলত্তি। সেখানে পৌঁছেই সিবিএফ-এর জাতীয় দল বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই কোচ। আপাতত সামনে আন্তর্জাতিক সূচি; আগামী সেপ্টেম্বরে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এছাড়া নভেম্বরে আরও দুটি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে তাদের। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হবে ২০৩০ বিশ্বকাপের লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্ব এবং ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিত হবে কোপা আমেরিকা।
নতুন করে ব্রাজিল দল গড়া প্রসঙ্গে স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক ‘এএস’কে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘একেবারে তরুণদের পরখ করে আমরা এক নতুন সেলেসাও তৈরির কাজ শুরু করব। তবে তার মানে এই নয় যে সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে খেলা অভিজ্ঞদের আমরা ছেঁটে ফেলছি। যাদের এখনো ব্রাজিলকে দেওয়ার মতো অনেক কিছু আছে, জাতীয় দলের দরজা তাদের জন্য খোলাই থাকছে।’
রিও ডি জেনিরোর ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ব্রাজিলের জাতীয় দল বিভাগের সমন্বয়ক রদ্রিগো কায়েতানো। নতুন এই যাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজের এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। সামনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব আর কোপা আমেরিকার মতো বড় টুর্নামেন্ট। প্রতিটি প্রতিযোগিতায় যেন দেশকে সেরা উপায়ে তুলে ধরা যায়, আমরা সেই পরিশ্রমই করব।’
সিবিএফ-এর এই নতুন পরিকল্পনার একটি মূল লক্ষ্য হলো জাতীয় দলের ভিত শক্ত করা। এজন্য বয়সভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে মূল দলের যোগাযোগ ও কাজের সমন্বয় আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, ব্রাজিলের জার্সিতে আর ফিরবেন না নেইমার।