ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে এখনো কোনো সুখবর দিতে পারেননি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চললেও সিরিজটি মাঠে গড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত নিশ্চয়তা মেলেনি। রাজনৈতিক কারণে যদি কোনো জটিলতা তৈরি হয়ে থাকে, তবে সেটির সমাধান রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
বুধবার বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারত সিরিজের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন তামিম ইকবাল। তিনি জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন, ‘ভারত সিরিজ নিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের কাছে কোনো খবর নেই। আমরা আলোচনা করছি। বিসিসিআইয়ের সঙ্গে বিসিবির ই-মেইল আদান-প্রদান হচ্ছে। সব দিক থেকে চেষ্টা করছি এবং আশা করছি তারা আসবে।’
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সিরিজ ঘিরে ক্রিকেটার, দর্শক ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহ থাকে উল্লেখ করে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ হলে উত্তেজনা অন্য পর্যায়ে থাকে। সাংবাদিক, সমর্থক ও ক্রিকেটার সবাই সিরিজটির অপেক্ষায় থাকে। বাংলাদেশ অত্যন্ত নিরাপদ দেশ। আমি খুবই আশাবাদী, তারা আসবে।’
তবে সফরটি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি কেবল দুই ক্রিকেট বোর্ডের আলোচনার ওপর নির্ভর করে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তামিম। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব ক্রিকেটে পড়ে থাকলে সরকারের পর্যায়েই সমাধান খুঁজতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
এই প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে যদি দুই বন্ধুপ্রতিম ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়, তাহলে রাজনৈতিকভাবেই সেটির সমাধান করতে হবে। বিসিবির পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, আমরা করছি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছি এবং এই সিরিজের সুবিধাগুলো বোঝানোর চেষ্টা করছি। তবে বিসিবি সভাপতি হিসেবে আমারও একটি সীমা আছে, যেটি অতিক্রম করা উচিত নয়।’
ভারতের এই সফরটি প্রথমে ২০২৫ সালের আগস্টে হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে দুই বোর্ডের সম্মতিতে তা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই সফরে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা রয়েছে। তবে সংশোধিত সূচির নির্দিষ্ট তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
তামিমের বক্তব্যে সিরিজটি বাতিল হওয়ার কোনো ঘোষণা না এলেও সফর নিশ্চিত করার মতো কোনো অগ্রগতি এখন পর্যন্ত হয়নি। আপাতত দুই বোর্ডের আলোচনা এবং রাজনৈতিক পর্যায়ের সম্মতির ওপরই নির্ভর করছে ভারতের বাংলাদেশ সফরের ভবিষ্যৎ।