বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনায় সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে ফিফার সদস্য ফেডারেশনগুলোকে বড় অঙ্কের অর্থের প্রস্তাব দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রস্তাবে রাজি হলে প্রতিটি ফেডারেশন সর্বোচ্চ চার কোটি ডলার পেতে পারে, অন্যথায় এই অর্থ তারা পাবে না। ইনফান্তিনোর এই প্রস্তাবকে ‘নির্ভেজাল ঘুষ’ বলে অভিহিত করেছেন বিরোধীরা।
দ্য টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফার ২১১ সদস্য ফেডারেশনের কাছে ইতিমধ্যে চিঠি পাঠিয়েছেন ইনফান্তিনো। প্রস্তাবটি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাদের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ফুটবলের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ফেডারেশনগুলো পাচ্ছে মাত্র ৫৩ দিন।
চিঠিতে সদস্যদের সামনে দুটি বিকল্প রেখেছেন ফিফা সভাপতি। এই পরিকল্পনায় সমর্থন দিলে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এক হাজার কোটি ডলারের একটি নতুন তহবিল চালু হবে, যেখান থেকে প্রতিটি ফেডারেশন সর্বোচ্চ চার কোটি ডলার পাওয়ার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করা হলে বর্তমানে পরিকল্পিত ফিফা ফরোয়ার্ড কর্মসূচির ২৭০ কোটি ডলারের তহবিলই বহাল থাকবে। এর অর্থ হলো, ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে সদস্যদের জন্য অর্থের পরিমাণ প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কমে যাবে।
ফিফার নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে দুই হাজার কোটি ডলার মূল্যমানের একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে চায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এই প্রতিষ্ঠানটির ২০ শতাংশের বেশি মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে চায় ফিফা।
নতুন এই প্রতিষ্ঠানটি পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার সম্প্রচার, বিপণন, পৃষ্ঠপোষকতা ও টিকিট ব্যবসা পরিচালনা করবে। ফিফার দাবি, প্রতিযোগিতা ও ফুটবলীয় সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে। তবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতার সূচি, আকার ও আয়োজনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিরোধীরা।
পরিকল্পনাটির বিরোধী সূত্রগুলো দ্য টাইমসকে বলেছে, সমর্থনের বিনিময়ে সদস্য ফেডারেশনগুলোকে বিপুল অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব ‘নির্ভেজাল ঘুষ’।
চিঠির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠক ডেকেছে উয়েফা। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলেছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমর্থন না দিলে অতিরিক্ত অর্থ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তই পরিকল্পনাটির উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে দেয়। ফিফা নিজেদের এবং ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের লাভবান করতে ফুটবলকে ব্যবহার করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছে তারা।
ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি প্রকাশের আগে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। একই অভিযোগ করেছে কনকাকাফ। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের এই সংস্থাটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকেই প্রথম বিষয়টি জানতে পেরেছে। পরিকল্পনাটির স্বচ্ছতা ও পরিচালন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এই দুই সংস্থাই।
ইনফান্তিনোর দাবি, নতুন বিনিয়োগ থেকে পাওয়া অর্থ অবকাঠামো, কোচিং, ঘরোয়া প্রতিযোগিতা, জাতীয় দল ও তৃণমূল ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় হবে। তবে উয়েফার সদস্যদের একটি অংশ তার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের মতো কঠোর পদক্ষেপও বিবেচনা করছে।