একটি জাতির টিকে থাকার প্রধান শর্ত হলো লড়াই; লড়াই ছাড়া কোনো জাতি টিকে থাকতে পারে না বলে মনে করেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তাঁর মতে, জাতি যখন অচেতন হয়ে পড়ে বা ঘুমিয়ে যায়, তখন রাজনৈতিক কর্মীদের মূল দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় তাদের ধাক্কা দিয়ে জাগিয়ে তোলা। জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান ছিল মূলত তরুণ প্রজন্মের আত্মপরিচয় খোঁজা এবং লড়াইয়ের ইতিহাসকে পুনরায় স্মরণ করার একটি প্রক্রিয়া।

সম্প্রতি মুক্তকণ্ঠের ধারাবাহিক অনুষ্ঠান 'আলাপন'-এ অংশগ্রহণ করে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আগে দেশের তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরণের হতাশা কাজ করত। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তরুণরা তখন ফুটবল, ক্রিকেট, কনসার্ট কিংবা মাদকের নেশায় মগ্ন ছিল এবং দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে তাদের তেমন কোনো আগ্রহ ছিল না। তিনি বলেন, "তরুণদের এই নির্লিপ্ততা মূলত আওয়ামী লীগ সরকারকে আরও শক্তিশালী ও স্বেচ্ছাচারী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল।"

সেই সময়ের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম এবং বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ ফ্যাসিবাদের দালালিতে লিপ্ত হয়ে নিজেদের প্রকৃত দায়িত্ব পালন করেনি। পদ্মা সেতু বা মেট্রোরেল নির্মাণের দোহাই দিয়ে দেশ সঠিক পথে আছে—এমন ধারণার বাইরে গিয়ে প্রকৃত বাস্তবতা তরুণদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মীদের দায়িত্ব ছিল তরুণদের পূর্বপুরুষদের সংগ্রামের ইতিহাস মনে করিয়ে দেওয়া। কারণ ব্যক্তিগত জীবনের মতো জাতীয় জীবনেও সংগ্রাম ছাড়া কোনো অর্জন সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।