রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ কেন্দ্রিক হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি জানিয়েছেন, এর আগে গ্রেপ্তার না হলে আগামী সপ্তাহের রবি বা সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করবেন তিনি।

বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে হাজিরা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই কথা জানান।

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত লতিফ সিদ্দিকী জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত বছরের আগস্টে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটের এক অনুষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরবর্তীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়। কয়েক মাস পর জামিনে মুক্তি পেলেও ওই মামলায় তাঁকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে।

আজকের শুনানির পর লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আজ সকালে আমাকে জানানো হয়েছে, শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আমি জানি, আজ যদি আদালতে না আসতাম, তাহলে মনে করা হতো আমি আত্মগোপনে চলে গেছি। আমি সাধারণত আত্মগোপন করি না, সব সময় আত্মপ্রকাশ করি। সে কারণেই আজ আদালতে এসেছি।’

শাপলা চত্বরের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তখন মন্ত্রী ছিলাম। কিন্তু শাপলা চত্বরের ঘটনা বা সে সময়কার কোনো বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

এদিকে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘শেখ হাসিনা সম্পর্কে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই।’

আদালত সূত্রে জানা গেছে, শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ছিল। ওই মামলায় লতিফ সিদ্দিকীসহ অন্যান্য আসামিরা হাজিরা দিলেও তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হয়। ফলে আদালত আগামী ৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মঞ্চ-৭১’ প্ল্যাটফর্মের আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় একদল লোক লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে এবং পরদিন শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। গত বছরের ৬ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি কারামুক্ত হন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সালে মন্ত্রিত্ব লাভ করেন। তবে হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে ২০১৪ সালে তাঁকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয় এবং দল থেকে বহিষ্কৃত হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানের পর সংসদ বিলুপ্ত হলে তাঁর সদস্যপদের অবসান ঘটে।