জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তিন প্লাটুন সদস্যের পাশাপাশি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল থেকে এসব বাহিনীর সদস্যরা শহরের বিভিন্ন স্থানে টহল শুরু করেন।

তensions এড়াতে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক জরুরি আদেশে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও পথসভার কর্মসূচি ঘোষণা করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সময়ে ও একই এলাকায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, জেলা ছাত্রদল ও যুবদলও প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।

উভয় পক্ষের বিপুল নেতাকর্মীর উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকায় সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষতি এবং জনশান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নেয়। জারি করা আদেশ অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, জনসভা, মিছিল, স্লোগান, পিকেটিং, মাইকিং এবং উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের পাশাপাশি র‍্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে নজরদারি জোরদার করেছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে প্রতিবাদ জানাতে বুধবার বিকেল ৩টায় হবিগঞ্জে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল দলটি। ওই সমাবেশে দলের আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব ও সংসদ সদ্য আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

অন্যদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে এনসিপির বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মিথ্যাচারের অভিযোগ এনে পাল্টা বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদল। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।