রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কেন্দ্রিক একটি হত্যাচেষ্টার মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার এই আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে বুধবার জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন পুলিশের আবেদনটি গ্রহণ করে শুনানির জন্য আগামীকালকের দিনটি নির্ধারণ করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দিন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গতকাল কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আগামীকাল শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।"

পুলিশের করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উক্ত ঘটনার সঙ্গে কলিমুল্লাহর সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে অন্য একটি মামলায় কারাগারে থাকায় তাঁকে এই মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। এছাড়া তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে এই মামলায় কারাগারে আটক রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে আবেদনে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিনই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং এরপর থেকে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন।

এদিকে, গত সোমবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের অর্থ আত্মসাতের মামলায় কলিমুল্লাহর জামিননামা দাখিল করা হয়েছে। এক লাখ টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্ত পূরণ করায় তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে উত্তরা পশ্চিম থানার রবীন্দ্র সরণি এলাকায় অবস্থান করছিলেন মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায়। এতে একটি গুলি সাব্বিরের বাঁ হাতের কনুইয়ে বিদ্ধ হয়ে অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে সাব্বিরকে প্রথমে উত্তরা হাইকেয়ার জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টার মামলাটি দায়ের করেন।