পাবনা শহরের লস্করপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের এলোপাতাড়ি কামড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই হামলায় এক শিশুর চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল পর্যন্ত এই আক্রমণগুলো চালানো হয়। বুধবার দুপুরে পাবনা সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লস্করপুর রেলওয়ে স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি বেওয়ারিশ কুকুর হঠাৎ পথচারীদের ধাওয়া করে কামড়াতে শুরু করে। এতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১১ জন আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় র‌্যাবিস প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, আহত ১১ জনের মধ্যে তিনজন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন এবং আটজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, লস্করপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে যাত্রী, রিকশাচালক, দোকানদার ও শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত কুকুর নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা জুঁই আক্তার বলেন, "গতকাল সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই কী যে একটা অবস্থা তৈরি হয়! মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চোখের সামনে অন্তত ১৫-২০ জনকে কামড়েছে। এক শিশুর চোখ উপড়ে ফেলেছে। আমরা কয়েকবার বলেছি, কিন্তু থানা-পুলিশ ও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আজ সকালেও ওই কুকুরগুলোকে এলাকায় ঘুরতে দেখা গেছে এবং দু-একজনকে কামড়েছে।"

ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। রেলওয়ে স্টেশন এলাকাসহ কুকুরের কামড় থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কার দায়িত্ব—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

পাবনা সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "কুকুরের কামড়ে আহত ১১ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। সবাইকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও র‌্যাবিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে।"