দীর্ঘ ১৬ বছর পর জার্সিতে দ্বিতীয় তারকা যোগ করতে পেরেছে স্পেন। বিশ্বজয়ের সেই উচ্ছ্বাস এখনো কাটেনি, আর এরই মাঝে শুরু হয়েছে খেলোয়াড়দের প্রতিশ্রুতি পূরণের পালা। বিশ্বকাপ জিতলে বিশেষ কিছু করার কথা জানিয়েছিলেন ফেরান তোরেস, পেদ্রি, গাভি ও লামিনে ইয়ামাল। তবে এখন পর্যন্ত কথা রেখেছেন কেবল মার্ক কুকুরেয়া। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিজের বাহুতে স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ট্যাটু করিয়েছেন এই ডিফেন্ডার।
কুকুরেয়া আগেই জানিয়েছিলেন, ট্যাটুটি আকারে ছোট হলেও এমনভাবে করা হবে যেন তা সহজেই নজরে পড়ে। জাতীয় দলের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে এটি তাঁর জীবনের অন্যতম বিশেষ স্মারক। এই ট্যাটুটি করেছেন প্রখ্যাত ট্যাটু আর্টিস্ট গাঙ্গা, যার গ্রাহকদের তালিকায় লেব্রন জেমস, কার্লোস আলকারাজ ও জর্জিনা রদ্রিগেজের মতো তারকাদের নাম রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ট্যাটুর ছবি প্রকাশ করে কুকুরেয়া ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘প্রতিশ্রুতি রেখেছি।’ ট্যাটুটিতে দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ছবি। কুকুরেয়ার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে সতীর্থ মিকেল মেরিনো মন্তব্য করেছেন, ‘ঐতিহাসিক।’ আর স্প্যানিশ টেনিস তারকা কার্লোস আলকারাজ লিখেছেন, ‘দারুণ!’
এর আগে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করার পর সংবাদ সম্মেলনে কুকুরেয়ার এই প্রতিশ্রুতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কোচ দে লা ফুয়েন্তে হাস্যরসের সঙ্গে বলেছিলেন, কুকুরেয়া ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না তা নিয়ে তাঁর সন্দেহ ছিল। তবে তিনি জানতেন, প্রতিশ্রুতি দিলে কুকুরেয়া তা রক্ষা করবেনই।
সেই প্রসঙ্গে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘ওরা ভুল করেছে। তবে ওরা খুবই দায়িত্বশীল মানুষ, তাই কথা রাখবেই। আমি ওদের জিজ্ঞেসও করেছিলাম, “তোমরা ভুল করছ না তো?” ওরা করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটা উপভোগই করবে।’
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন কুকুরেয়া। ছুটি শেষে তিনি রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেবেন এবং নতুন মৌসুমের প্রাক্-মৌসুম অনুশীলনে অংশ নেবেন এই কাতালান ফুটবলার।
বিশ্বকাপের আগে সাবেক চেলসি ডিফেন্ডার হিসেবে প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছিলেন তিনি। রক্ষণে ‘ব্লুজ’দের অন্যতম ভরসা হওয়ার পাশাপাশি বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণেও ছিলেন কার্যকর এবং মৌসুমজুড়ে সতীর্থদের পাঁচটি গোলের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তবে বিশ্বকাপে তাঁর অসাধারণ সাফল্যই নতুন কোচ জোসে মরিনিওর অধীনে রিয়াল মাদ্রিদে তাঁর দলবদলের সিদ্ধান্ত নিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।