জয়ের লক্ষ্যে ২১১ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ১২০ রানে গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান। অধিনায়ক বাবর আজমের অপরাজিত অর্ধশতক সত্ত্বেও তারোবায় প্রথম টেস্টে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৯০ রানে পরাজিত হয়েছে সফরকারীরা। এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
মঙ্গলবার চতুর্থ দিনের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংস ছিল ১২৬ রানে ৭ উইকেট। অষ্টম উইকেটে শামার জোসেফ ও কেমার রোচ ৬১ রানের জুটি গড়েন। জোসেফ ২৭ বলে ৪টি ছক্কা ও একটি চারের সাহায্যে ৩৮ রান করেন এবং রোচ করেন ১৮ রান। শেষদিকে জোমেল ওয়ারিক্যানের ১৪ রানের অবদানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংস ১৮১ রানে শেষ হয়। পাকিস্তানের মোহাম্মদ আব্বাস ২২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসের ২৯ রানের লিডসহ পাকিস্তানের সামনে ২১১ রানের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। দলীয় ৫ রানে ইমাম-উল-হককে ফেরান রোচ। এরপর সিলসের বলে ৩ রান করে বিদায় নেন আজান আওয়াইস এবং পরের ওভারেই শূন্য রানে এলবিডব্লিউ হন সালমান আগা। ২৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় পাকিস্তান, যাদের সংগ্রহ ছিল ২৮ রান।
এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান অধিনায়ক বাবর আজম। মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ২১ রান যোগ করেন তিনি। তবে ১১ রান করা রিজওয়ানকে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন জাস্টিন গ্রিভস। এরপর দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরেন আমের জামাল ও অভিষিক্ত আলী উসমান। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা শান মাসুদ আঙুলের চোটের কারণে আট নম্বরে ব্যাটিং করতে নামেন। এক হাতে লড়াই করলেও তিনি মাত্র ৩ রান করতে সক্ষম হন। ৭১ রানেই নবম উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান।
শেষ উইকেটে মোহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে ৪৯ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১০০ ছাড়ায় বাবর। এই ম্যাচে তিনি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩২তম অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তবে চা বিরতির পর আব্বাসকে এলবিডব্লিউ করে জয় নিশ্চিত করেন সিলস। ১০৭ বলে ৯টি চারসহ ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন বাবর এবং আব্বাস করেন ২৩ রান। পাকিস্তানের অন্য কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
সিলস ১৪.২ ওভারে ২০ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন। রোচ ও গ্রিভস ১২ ও ২৭ রানে দুটি করে উইকেট পান। বাকি উইকেটটি নেন জোসেফ।
এর আগে প্রথম ইনিংসে শাই হোপের ৯২ ও কাভেম হজের ৮৪ রানের ওপর ভর করে ৩১১ রান সংগ্রহ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে শান মাসুদের ১০৯ ও ইমামের ৬৩ রানে ভালো অবস্থানে থাকলেও ২৪৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর ধসে পড়ে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ২৮২ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। ২৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেওয়া গ্রিভস নির্বাচিত হন ম্যাচসেরা।
ম্যাচের ৪০টি উইকেটই নিয়েছেন পেসাররা, যা টেস্ট ইতিহাসে ষষ্ঠবার ঘটল। এছাড়া দেশের বাইরে এটি পাকিস্তানের টানা অষ্টম টেস্ট হার, যা তাদের দীর্ঘতম পরাজয়ের ধারা।
আগামী ২ আগস্ট পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভালে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে।