রংপুরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আজমাইন আবদুল্লাহ (২৬) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার প্রায় দুই মাস পর গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় তাকে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে রংপুরে এনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ৬ মে ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর করা আবেদনের প্রেক্ষিতে রংপুর আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। গ্রেপ্তার আজমাইন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভার বাসিন্দা।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, আজমাইন বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও সেই তথ্য গোপন করে ওই কলেজছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। শুরুতে ছাত্রীটি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলেও পরবর্তীতে ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হারাগাছ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমীন মামলার আরজির বরাত দিয়ে জানান, গত বছরের ২ ডিসেম্বর বিয়ের কথা বলে আজমাইন ওই কলেজছাত্রীকে রংপুর আদালত এলাকার পাশে একটি লেকের পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে একটি স্ট্যাম্পে ওই তরুণীর স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাঁদের বিয়ে হয়েছে বলে তাঁকে জানান। পরে হারাগাছের ধুমগড়া এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাঁকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে রাত কাটান। এরপর বিভিন্ন সময় আলাদা আলাদা স্থানে নিয়ে গিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে একাধিকবার ওই তরুণীর সঙ্গে আজমাইন শারীরিক সম্পর্কে জড়ান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পরবর্তীতে ওই কলেজছাত্রী বিয়ের কাবিননামার কাগজ দেখতে চাইলে আজমাইন বিভিন্নভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যান। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে গত ২৪ এপ্রিল সাক্ষীদের নিয়ে আজমাইনের বাড়িতে যান ওই ছাত্রী। তখন আজমাইন তাঁকে জানান, তিনি বিবাহিত, তাঁর স্ত্রী আছে। তিনি ওই তরুণীকে বিয়ে করতে পারবেন না। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে তিনি তাঁকে (তরুণীকে) টাকার বিনিময়ে বিষয়টি কাউকে না জানানোর প্রস্তাব দেন এবং তাঁকে বিরক্ত করলে গোপন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অশোক চৌহান জানান, আদালতের নির্দেশে ১২ মে আজমাইনের বিরুদ্ধে হারাগাছ থানায় ধর্ষণের মামলা হয়। মামলার পর থেকে আজমাইন আত্মগোপনে চলে যান। প্রায় দুই মাস ধরে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায় পুলিশ। গতকাল র্যাব-১-এর সহায়তায় ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে হারাগাছ থানায় আনা হয় এবং আজ মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে বিকেলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।