উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালোতালিকাভুক্ত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। একইসঙ্গে তিনি যেকোনো প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সম্মেলনকক্ষে বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতিবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠু ও সততার সঙ্গে হচ্ছে কি না, তা পরিদর্শনের জন্য গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদল থাকবে এবং পাশাপাশি একটি নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেও যাচাই করা হবে। ঠিকাদারি ও নির্মাণকাজে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি না হয়, সে বিষয়ে তিনি গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সতর্ক করে দেন।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "দরিদ্রদের জন্য এক লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এসব ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে উঠে করতে হবে।"

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন হয়রানিমুক্তভাবে প্রকল্পগুলোতে অংশগ্রহণ করতে পারে, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি। কারও সঙ্গে গোপন বৈঠক বা সমঝোতার কথা শোনা গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া তিনি আরও বলেন, "দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করে নতুনভাবে সাজাতে কম মুনাফায় সর্বোচ্চ মান ঠিক রেখে প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করতে হবে।"

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এক লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা।

এ সময় সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম, সদস্য আবদুল গোফফার, প্রকৌশলী আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহজালাল মজুমদার, পরিচালক ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন, মেহেদী হাসানসহ জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং নিবন্ধিত ঠিকাদারেরা উপস্থিত ছিলেন।