সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলার সরকারি খাদ্যগুদামের সামনের প্রধান সড়কে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’–এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তাঁর সংসদীয় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

আজকের অবস্থান কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এসময় অংশগ্রহণকারীরা প্রধান সড়কের উভয় পাশে অবস্থান করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগের দাবি জানান। এই কর্মসূচির ফলে কিছু সময়ের জন্য শ্যামনগর–মুন্সিগঞ্জ সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মজিদ, ইদ্রিস হাজী, গাজী শাহ আলম, ছাবিনা খাতুন, মমতাজ বেগম এবং এবাদুল ইসলামসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যে আবদুল মজিদ বলেন, “একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত আচরণ ও নৈতিক অবস্থান জনগণের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টির নৈতিক দায় স্বীকার করে তাঁর সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত।”

অন্যান্য বক্তারা বলেন, জনগণের আস্থা ও জনপ্রতিনিধিত্বের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি পূরণ না হলে শুধু শ্যামনগর নয়, পুরো সাতক্ষীরা অচল করে দেওয়ার মতো কর্মসূচি নেওয়া হবে। পাশাপাশি এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বাড়ি ঘেরাও করা হবে। ইতিমধ্যে শ্যামনগরে তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে এবং পদত্যাগ না করলে তাঁকে শ্যামনগরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, ২০ জুলাই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। তবে পরদিন গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ও নির্বাচনী এলাকায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলাকালীন জামায়াত দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর থেকে তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।