চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে হত্যার মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি মো. ইলিয়াস ওরফে ‘ধামা ইলিয়াস’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ইলিয়াসের বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যাসহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) শুনানি শেষে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাখাওয়াত হোসেন তাকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর ঢাকায় এক অভিযানে ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা আদালতের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ইলিয়াস চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। গত ১৩ জুনের হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে অস্ত্র হাতে হামলায় সরাসরি অংশ নিতে দেখা গেছে।
গত ১৩ জুন দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে। নিহতের পরিবারের দাবি, তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ানোর সময় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাটিতে পড়ে যান মাসুদুল। এ সময় পেছনে ধাওয়া করা সশস্ত্র হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। প্রথম দফার হামলার ৪০ থেকে ৫০ সেকেন্ড পর হামলাকারীরা পুনরায় ফিরে এসে তাকে গুলি করে এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পালিয়ে যায়।
হত্যাকাণ্ডের দুদিন পর, ১৫ জুন নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী মোহাম্মদ রায়হান, মো. ইলিয়াস, মো. মোবারক, দিদারুল আলম ও মো. ইউসুফসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ইলিয়াস ও দিদারুল প্রথমে মাসুদুলকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। পরে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে এসে আবারও তাকে গুলি করেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হামলাকারী অস্ত্রধারীদের মধ্যে তিনজনের হাতে পিস্তল এবং দুজনের হাতে শটগান ছিল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাউজান এলাকায় রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক সহিংসতা চলছে। এসব ঘটনায় এ পর্যন্ত অন্তত ২৫ জন নিহত এবং গোলাগুলিতে তিন শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।