অধিকৃত পশ্চিম তীরে সামরিক তৎপরতা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। সম্প্রতি জেনিন, তুলকারেমন ও নূর শামস শিবিরের আদলে অন্যান্য ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলোও পূর্ণ দখলের জন্য তিনি সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।
২০২৪ সালে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা এক সপ্তাহের হামলা ও গ্রেপ্তারি অভিযানে অন্তত ৩০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ৩ সেপ্টেম্বর ওই বছরের পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি হামলার একটি ইনফোগ্রাফ প্রকাশ করেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ২৮ আগস্ট জেনিন, তুলকারেমন ও তুবাসে চালানো হামলায় ১০ জন নিহত হন। এর পরদিন ২৯ আগস্ট ইসরায়েলি সেনারা হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো অবরুদ্ধ করে ফেলে, যার ফলে আরও আটজনের মৃত্যু ঘটে।
পরবর্তীতে ৩০ আগস্ট জেনিনে সর্বাত্মক আক্রমণ চালিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয় এবং নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২১ জনে। ৩১ আগস্ট জেনিনের আল-জাবরিয়াত এলাকার বেশ কিছু আবাসিক ঘরবাড়ি ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে ওই এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও দোকানপাট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
১ সেপ্টেম্বর জেনিনের রাস্তাঘাট বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন লাইন ধ্বংস করার ফলে এলাকার ৮০ শতাংশ মানুষ তীব্র সুপেয় পানির সংকটে পড়েন। ২ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব পালনরত একদল সাংবাদিকের ওপর হামলা ও গুলি বর্ষণ করে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী।
৩ সেপ্টেম্বরও জেনিন শহরে বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো অব্যাহত রাখা হয় এবং বহুতল ভবনের ছাদে ছাদে ঘাতক স্নাইপার মোতায়েন করে রাখে ইসরায়েল।