বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এমবোলোর লাল কার্ড পাওয়া উচিত হয়নি। ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) নতুন ব্যাখ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ২৭ জুলাই প্রকাশিত ৩৪ নম্বর পরিপত্রে ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানোর ক্ষেত্রে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) ক্ষমতা স্পষ্ট করেছে আইএফএবি। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এমবোলোর ঘটনায় ভিএআর নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে মূল অপরাধটি পরিবর্তন করেছিল।

ঘটনাটি ঘটে গত ১১ জুলাই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচের ৭১তম মিনিটে। লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে ব্রিল এমবোলোর সংঘর্ষের পর রেফারি জোয়াও পিনেইরো আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। পরবর্তীতে ভিএআর ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানোর নিয়মে ঘটনাটি পর্যালোচনার জন্য রেফারিকে ডাকেন। রিপ্লে দেখার পর পিনেইরো পারেদেসের কার্ড বাতিল করেন এবং একই সঙ্গে পড়ে গিয়ে ফাউল আদায়ের চেষ্টা করার অভিযোগে এমবোলোকে হলুদ কার্ড দেখান। ম্যাচে এটি ছিল সুইস ফরোয়ার্ডের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড, যার ফলে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়।

সে সময় ম্যাচের স্কোর ছিল ১-১। বাকি সময় ১০ জন খেলোয়াড় নিয়েও নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত সমতা ধরে রাখে সুইজারল্যান্ড। তবে অতিরিক্ত সময়ে দুই গোল করে আর্জেন্টিনা ৩-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে সেমিফাইনালে ওঠে।

আইএফএবির নতুন ব্যাখ্যায় জানানো হয়েছে, সাধারণ কোনো হলুদ কার্ডের ক্ষেত্রে ভিএআর কেবল একই অপরাধের জন্য সঠিক খেলোয়াড়কে শনাক্ত করতে পর্যালোচনা করতে পারে। কিন্তু যে অপরাধের জন্য প্রথম সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল, সেটি বদলে সম্পূর্ণ ভিন্ন অপরাধ নির্ধারণ করার সুযোগ ভিএআরের নেই। অর্থাৎ, ভিএআর পারেদেসের কার্ডটি ভুল কি না তা দেখতে পারলেও, এমবোলোর অভিনয় শনাক্ত করে নতুন করে তাঁকে হলুদ কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারত না। এমবোলো সত্যিই পড়ে গিয়ে ফাউল আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন কি না, সেটি এখানে মূল প্রশ্ন নয়; বরং বর্তমান নিয়মে ওই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ভিএআরের হস্তক্ষেপের অনুমতি ছিল না।

ম্যাচের পরপরই এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিন। তিনি বলেছিলেন, "রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত এবং নিয়মটির প্রয়োগ তাঁদের ম্যাচ ধ্বংস করে দিয়েছে।"

বিশ্বকাপে অভিনয়ের ঘটনা শনাক্ত করতে ভুল পরিচয়ের ধারাটি ব্যবহারের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবে আইএফএবি। ভবিষ্যতে ভিএআরকে এমন ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এভাবে অভিনয়ের ঘটনা যাচাই করা যাবে না বলে স্পষ্ট করেছে সংস্থাটি।

আইএফএবির নতুন ব্যাখ্যায় এমবোলোর বহিষ্কারকে ভুল প্রমাণ করা হলেও, ম্যাচের ফল পরিবর্তন কিংবা এই ঘটনা নিয়ে অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায়নি সংস্থাটি।