চট্টগ্রামের চন্দনাইশে পরিবারের সবাই প্রবাসে থাকায় একাকী থাকা এক বৃদ্ধের পচাগলা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম আবদুর রহমান, তিনি নগরপাড়া গ্রামের মিয়া সওদাগরের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, আবদুর রহমানের স্ত্রী ও তিন ছেলে মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে বসবাস করেন। নিজেও একসময় দুবাইয়ে থাকলেও দেড় বছর আগে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর আর প্রবাসে যাননি। বাড়িতে একা থেকে নিজের রান্নাবান্না নিজেই করতেন তিনি। গত শুক্রবার শেষবার তাঁকে গ্রামের একটি চা-দোকানে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে তাঁর সাথে কোনো যোগাযোগ ছিল না।
গতকাল সোমবার দুবাই থেকে ছেলেরা ফোনে তাঁর সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে ছোট ছেলের স্ত্রীকে খোঁজ নিতে পাঠান। তিনি এসে দেখেন ঘরের দরজা বন্ধ। স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা খোলার পর খাটে আবদুর রহমানের পচাগলা লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ লক্ষ্য করে, মরদেহে পচন ধরে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল এবং চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। পুলিশ ধারণা করছে, তিন-চার দিন আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় গাউছিয়া কমিটির মানবিক টিমের সহায়তায় লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সোলাইমান ফারুকী বলেন, "আবদুর রহমান এলাকায় অনেকটা একা চলাফেরা করতেন। সবার সঙ্গে তেমন যোগাযোগ ছিল না।"
চন্দনাইশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিটন মিয়া মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "খবর পেয়ে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, লাশের চোখে–মুখে পোকা ধরেছে। দুই হাতের চামড়া খুলে পড়েছে। দুর্গন্ধে টেকা যাচ্ছে না। তাঁর মৃত্যু বেশ কয়েক দিন আগে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে রিটন মিয়া আরও জানান, "তিনি গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশে চায়ের দোকান থেকে চা খেয়ে গেছেন। এরপর তাঁকে আর বাইরে দেখা যায়নি।"
প্রতিবেশীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি মাসে আবদুর রহমানের মেজ ছেলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর পরিবারের সবাই দুবাইয়ে ফিরে গেলেও তিনি যাননি। মেজ ছেলের স্ত্রী দোহাজারীতে বাবার বাড়িতে থাকেন এবং মাঝেমধ্যে শ্বশুরকে দেখতে আসতেন। সোমবার খোঁজ নিতে এসে তিনি শ্বশুরের মরদেহটি দেখতে পান।
পরিদর্শক রিটন মিয়া জানান, ছোট ছেলের স্ত্রী পুলিশকে বলেছেন যে দুবাই থেকে ছেলেরা বাবাকে বারবার ফোন করলেও কোনো সাড়া পাচ্ছিলেন না। তিনি আরও বলেন, "ছোট ছেলের স্ত্রী পুলিশকে জানায়, দুবাই থেকে ছেলেরা বাবাকে বারবার ফোন করে খবর পাচ্ছিলেন না। তাই সোমবার খোঁজ নিতে এসে মেজ ছেলের স্ত্রী শ্বশুরের লাশ দেখতে পান। তিনি স্ট্রোক করেছেন কিনা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে।"
পুলিশ আরও জানিয়েছে, আবদুর রহমানের স্ত্রী বর্তমানে দুবাইয়ে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।