ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের একটি ব্যস্ত সড়কে দুই হাতে দুটি ছুরি নিয়ে তিন নারীর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে এক দুর্বৃত্ত। সোমবার (২৭ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। পথচারী এবং ছুটিতে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার তৎপরতায় হামলাকারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আটকের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেন, ‘আল্লাহ আমাকে এই নির্দেশ দিয়ে পাঠিয়েছেন’।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ১৯, ২৪ ও ৩৬ বছর বয়সী তিন নারীকে লক্ষ্য করে ধারালো ছুরি দিয়ে আক্রমণ চালায় ওই ব্যক্তি। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি সেসময় দায়িত্বরত ছিলেন না, পথচারীদের সহায়তায় দ্রুত আক্রমণকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহত তিন নারীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রয়টার্স কর্তৃক যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ক্রিম রঙের ট্র্যাকস্যুট পরিহিত এক তরুণ দুই হাতে বড় ছুরি নিয়ে এক তরুণীকে ধারাবাহিকভাবে ছুরিকাঘাত করার চেষ্টা করছে। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পথচারীদের প্রচেষ্টায় হামলাকারী মাটিতে পড়ে গেলে তাকে আটক করা হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ২৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ-আলি বুহাদজার রয়টার্সকে জানান, ‘লোকটিকে এক নারীর পিঠে ছুরি মারতে দেখে আমি সবাইকে চিৎকার করে তাকে থামানোর আহ্বান জানাই। মুহূর্তে বেশ কয়েকজন সাহসী পথচারী এগিয়ে আসেন। একজন তাকে লক্ষ্য করে সুটকেস ছুড়ে মারলে তার হাত থেকে ছুরিগুলো পড়ে যায়। ঠিক তখনই আমরা তাকে ল্যাং মেরে মাটিতে ফেলে চেপে ধরি।’

আটক করার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ধর্মীয় মন্তব্য করতে শোনা গেছে। ভিডিও ফুটেজে মাটিতে শুয়ে থাকা ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আল্লাহই আমাকে এই নির্দেশ দিয়েছেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস জানান, গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিকভাবে চরম অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিলেন। পুলিশ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে তার পরিচয় ও আক্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও অস্পষ্ট রয়ে গেছে।

প্যারিস কর্তৃপক্ষ এই হামলাকে এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করেনি। তবে ফরাসি জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আইনি মূল্যায়নের পর আনুষ্ঠানিক তদন্তভার গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, জার্মানির বার্লিনে সমকামীদের ‘প্রাইড প্যারেড’-এ এক ব্যক্তির গাড়ি চাপায় ১ নারী নিহত ও ২৯ জন আহত হওয়ার মাত্র দুদিনের মাথায় প্যারিসে এই হামলার ঘটনাটি ঘটল।