পশ্চিম আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাদুনা রাজ্যের একটি গ্রামে বন্দুকধারীদের বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন বাসিন্দা আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ জুলাই) বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

হামলায় আহতদের চিকিৎসায় সহায়তারত স্থানীয় বাসিন্দা রাফায়েল জোশুয়া জানান, নিহত ৩০ জনের মরদেহ নিকটবর্তী একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং স্বজনরা তাদের দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গ্রামপ্রধানের সচিব ডোগন রানা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বন্দুকধারীরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে চালাতে এবং ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে এলাকায় হামলা চালায়। নিহতদের মধ্যে আটজন শিশু রয়েছে এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন।

নাগরিক সমাজ গোষ্ঠী সাউদার্ন কাডুনা পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান ডেরেক ক্রিস্টোফার জানান, রোববার গভীর রাতে কাদুনা রাজ্যের কাউরা এলাকার নারিডন গ্রামে এই নৃশংস হামলাটি চালানো হয়। এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্রিস্টোফার বলেন, ‘গত বছর ঠিক এই সময়েই একই গ্রামে হামলা চালিয়েছিল সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। ঘটনাগুলো দেখে মনে হচ্ছে সরকার সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার ইচ্ছা পুরোপুরি ত্যাগ করেছে। আমি জানি না এই অসহায় মানুষদের পক্ষে লড়াই করার মতো আর কে বাকি আছে।’

তবে এই ঘটনার বিষয়ে কাদুনা রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক কমিশনার সুলে শু'আইবু জানান, হামলাটি সম্পর্কে তাকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু অবহিত করা হয়নি। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়লেও নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষ প্রায়ই এ ধরনের হামলার খবর স্বীকার করতে বিলম্ব করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি।

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-মধ্য অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে ‘দস্যু’ হিসেবে পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মুক্তিপণের জন্য নিয়মিত ডাকাতি, অপহরণ ও হামলা চালিয়ে আসছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, এদের অনেকেই আগে পশুপালন করতেন এবং সম্পদের অধিকার ও জমি নিয়ে কৃষক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিরোধের জেরে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন।

পাশাপাশি, দেশটিতে উগ্রপন্থি গোষ্ঠী ‘বোকো হারাম’ এবং এর বিচ্ছিন্ন উপদল ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডব্লিউএপি) গত কয়েক বছর ধরে রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে যাচ্ছে। গৃহযুদ্ধ ও মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির কারণে নাইজেরিয়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক রোষানলে পড়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সুরক্ষা দিতে নাইজেরীয় সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই গত বছর ২৫ ডিসেম্বর নাইজেরিয়ার ভূখণ্ডে কথিত আইএস সদস্যদের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্র।