কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস এবং সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর জানা গেছে, তিনি আসলে ওই বিভাগের কোনো বৈধ শিক্ষার্থীই নন। তবে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি বা জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংরেজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শামিমা আক্তার (রোল: ২৪১০১০৪) নামের ওই ছাত্রী জালিয়াতির মাধ্যমে বিভাগে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। অথচ ভর্তি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত তালিকায় (সর্বশেষ রোল: ২৪১০১০৩) তাঁর কোনো নাম বা রোল নম্বর ছিল না। বিভাগীয় অফিশিয়াল কম্পিউটারে কারচুপি করে তাঁর নাম যুক্ত করা হয়। প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল তৈরির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল রেজাল্ট প্রসেসিং সফটওয়্যারে তাঁর রোল নম্বর না থাকায় বিষয়টি পরীক্ষা কমিটির নজরে আসে এবং জালিয়াতির বিষয়টি উন্মোচিত হয়। এই ঘটনায় গত ১১ জুলাই একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পরীক্ষা কমিটির সভাপতি মামুনুর রহমান বলেন, "সমস্যাটি লিখিতভাবে বিভাগীয় সভাপতিকে অবগত করলে জরুরি সভার আয়োজন করে বিভাগ। সবার আলোচনার ভিত্তিতে বিভাগ সিদ্ধান্ত নেয়।"

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জালিয়াতির মূল ঘটনাটি ঘটেছে বিভাগীয় পর্যায়েই। দাপ্তরিক কম্পিউটারে কারচুপির মাধ্যমে ২৪১০১০৪ রোল নম্বর দিয়ে শামিমা আক্তারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর তিনি নিয়মিত ক্লাস করেন এবং যথারীতি ফরম পূরণ করে প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে সফটওয়্যারে রোল না থাকায় রেজাল্ট প্রসেস করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে বিষয়টি ধরা পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, এই জালিয়াতির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর কোনো পদক্ষেপ ইংরেজি বিভাগের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি। কেবল ভর্তির নথি না পাওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে এবং নাম ও রোল অন্তর্ভুক্তির সঙ্গে জড়িত দুজনকে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে গত রোববার বিভাগের এক জরুরি বৈঠকে উপাচার্যকে বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি ডেপুটি রেজিস্ট্রার ইসরাত জাহান ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান মুরাদ হোসেনের কাছে লিখিত জবাব চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে মুরাদ হোসেন জানান, তাঁকে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ইসরাত জাহান বলেন, "ওই শিক্ষার্থী নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা (দাদা) কোটায় ভর্তি দাবি করে ২৪১০১০৪ রোল নম্বর অন্তর্ভুক্ত করতে বলেন। তিনি না বুঝে ও সত্যতা যাচাই (ভেরিফিকেশন) না করে তা বিশ্বাস করেছিলেন। যার জন্য তিনি ভুল স্বীকারও করেছেন।"

ইংরেজি বিভাগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন আজাদ জানান, পরীক্ষা কমিটির অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরি সভা ডেকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল ও সংশ্লিষ্ট দুজনকে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "সর্বশেষ ১১ ও ২৬ জুলাইয়ের একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে।"

পুরো বিষয়টি নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মতিনুর রহমান জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।