লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের ৩১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৬ জন যুগ্ম আহ্বায়কসহ ১৬ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন। ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন এবং প্রবাসীদের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ তুলে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম ও হারুনুর রশীদ একযোগে ১৬ জনের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য, নবগঠিত ওই কমিটিতে হারুনুর রশীদকে ৩ নম্বর এবং জাহাঙ্গীর আলমকে ৬ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছিল।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৬ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের ৩১ সদস্যের এই কমিটি প্রকাশ করা হয়। এর আগে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও কমিটি প্রকাশের একদিন পার হতে না হতেই অর্ধেকেরও বেশি সদস্য পদত্যাগ করেন।
পদত্যাগকারী নেতাদের দাবি, নতুন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব—দুজনই প্রবাসী। দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তারা পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পদত্যাগকারী যুবদল নেতা হারুনুর রশীদ বলেন, "টাকার বিনিময়ে এই কমিটি দেওয়া হয়েছে। যারা দলের দুর্দিনে রাজপথে সক্রিয় ও ত্যাগী ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। জ্যেষ্ঠদের সদস্য করে জুনিয়রদের করা হয়েছে যুগ্ম আহ্বায়ক। এ নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।"
আরেক পদত্যাগকারী নেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "রাজপথের ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে প্রবাসীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কত টাকার লেনদেন হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।"
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আবদুল মুকিত সোহেল। তিনি জানান, টাকা লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। পদ-পদবি নিয়ে জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছু মান-অভিমান থাকতে পারে। তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করলে এই অসন্তোষ কেটে যাবে বলে তিনি মনে করেন।