ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ না নেওয়ার পূর্ব চুক্তি লঙ্ঘন করে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার এবং দিল্লিতে হয়রানির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী সব এফআইআর প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তি না দেওয়া হলে আবারও দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাংকা বলেন, "বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো পুলিশি ব্যবস্থা না নেওয়ার যে সমঝোতা হয়েছিল, তা পুরোপুরি লঙ্ঘিত হচ্ছে।"

তিনি জানান, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বিহার ও বাংলায় শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া দিল্লিতেও শত শত শিক্ষার্থী বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। একাধিক প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে রাংকা দাবি করেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে। একইসঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর পুলিশ যেন ভবিষ্যতে নতুন কোনো মামলা না করে, সে বিষয়ে দাবি জানান তিনি। দাবি না মানলে সিজেপি আবারও আন্দোলনে নামবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। এছাড়া আইনি মামলা ও সরকারের সঙ্গে নির্ধারিত সময়সীমার বিষয়ে লিখিত চুক্তিটি দ্রুত প্রকাশের দাবিও জানান তিনি।

এদিকে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এক্সে জানান, আন্দোলন শুরুর প্রথম দিন থেকে তারা বিক্ষোভকারীদের আইনি সহায়তা দিয়ে আসছেন। তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীকে দ্রুত দেশের বিভিন্ন স্থানে আটকে থাকা বিক্ষোভকারীদের মুক্তি দিয়ে কথা রাখার আহ্বান জানান। সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে—এমন আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের আশ্বাস দেন।

বিহারে শিক্ষার্থী গ্রেপ্তারের খবরের পর অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা পাটনায় পৌঁছান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "প্রতিবাদ করার জন্য শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করা এবং তাদের বিরুদ্ধে চেষ্টার মতো গুরুতর ধারা যুক্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"

তিনি দ্রুত সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, অন্যথায় বিহারেও দিল্লির মতো তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠবে। তিনি আরও বলেন, "যতক্ষণ না পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থী আন্দোলনকারী মুক্তি পাচ্ছে, ততক্ষণ এই আন্দোলন থামবে না। ভিন্নমত পোষণের অধিকার একটি সাংবিধানিক অধিকার, কোনো অপরাধ নয়। কোনো সরকার তা কেড়ে নিতে পারে না।"

উল্লেখ্য, নিট পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের অভিযোগে গত ২০ জুন সিজেপি আন্দোলন শুরু করে। পরবর্তীতে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের ২৬ দিনের অনশনের পর আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয়। দীর্ঘ ৩৬ দিনের এই আন্দোলন সম্প্রতি স্থগিত করা হয়। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শান্তিকামী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস পাওয়ার পর সিজেপি তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছিল।

অন্য এক প্রসঙ্গে গত সোমবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জোর দিয়ে বলেছে, আন্দোলন চলছে বলেই পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বা সহিংসতা চালানো যাবে না। রাজ্যসভার সংসদ সদস্য মনোজ ঝা-সহ বেশ কয়েকটি আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা থাকা আবশ্যক।

প্রধান বিচারপতি বলেন, "প্রতিবাদের অধিকার, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, আইনানুগ প্রতিবাদ আমাদের সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনে পুরোপুরি সুরক্ষিত। যতক্ষণ একটি আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকে, কেবল আন্দোলন হচ্ছে বলেই সেখানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা যাবে না।"