ইউরোপীয় ফুটবলে রেকর্ড ১৫টি চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি এবং লা লিগায় বার্সেলোনার চেয়ে সাতটি বেশি শিরোপা জয়ের মালিক রিয়াল মাদ্রিদ। তবে সামগ্রিক সাফল্যের এই হিসাবের বাইরে সাম্প্রতিক সময়ে ঘরোয়া ফুটবলে বার্সেলোনাই বেশি প্রভাবশালী। গত দুই মৌসুমের লা লিগা, কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ সুপার কাপের মোট ছয়টি ট্রফির মধ্যে পাঁচটিই এখন কাতালান ক্লাবটির দখলে, রিয়ালের নেই একটিও।
এই একচ্ছত্র আধিপত্য ভাঙতে এবার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের দল। রিয়ালের জন্য বড় বিনিয়োগ নতুন কিছু নয়, তবে এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের কৌশল যেন ২০১০ সালের পুনরাবৃত্তি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি এবং রিয়ালের উদ্যোগের সাথে ২০১০ সালের ঘটনার ব্যাপক মিল রয়েছে।
সে সময় পেপ গার্দিওলার অধীনে ২০০৯ সালে ট্রেবল জয়ের পর ইউরোপ ও স্পেনে দাপট দেখাচ্ছিল বার্সেলোনা। লিওনেল মেসির জাদুতে তাদের রাজত্ব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত ছিল। সেই আধিপত্য রুখতেই ইন্টার মিলান থেকে জোসে মরিনিওকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন পেরেজ। মরিনিওকে আনতে ক্ষতিপূরণ গুনলেও সাফল্য পেতে মরিয়া ছিলেন তিনি। সেই সময়ে বেনফিকা থেকে আনহেল দি মারিয়া, ভের্ডার ব্রেমেন থেকে মেসুত ওজিল, স্টুটগার্ট থেকে সামি খেদিরা এবং রিকার্দো কারভাহালকে দলে ভেড়ায় রিয়াল। এছাড়া যোগ দেন সার্হিও কানালেস ও পেদ্রো লেওন। এর আগের গ্রীষ্মেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কাকা, করিম বেনজেমা ও জাবি আলোনসোর পেছনে রেকর্ড অর্থ ব্যয় করেছিল ক্লাবটি।
১৬ বছর পর আবারও সেই একই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। মরিনিওকে পুনরায় সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরিয়ে এনেছেন পেরেজ এবং তাঁর জন্য আরও শক্তিশালী দল গড়ার প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যে মার্ক কুকুরেয়া, ডেনজেল ডামফ্রিস, ইব্রাহিমা কোনাতে ও বের্নার্দো সিলভা রিয়ালে যোগ দিয়েছেন। কুকুরেয়ার জন্য চেলসিকে ৬ কোটি ইউরো এবং ডামফ্রিসের জন্য ইন্টার মিলানকে ২ কোটি ইউরো প্রদান করেছে রিয়াল। অন্যদিকে কোনাতে ও বের্নার্দো সিলভা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিনা ট্রান্সফার ফিতে এসেছেন।
তবে রিয়ালের পরিকল্পনা এখানেই শেষ নয়। বিশ্বকাপের পর আইভরি কোস্টের ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার ইয়ান দিয়োমান্দের জন্য ১০ কোটির বেশি ইউরো খরচের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রির জন্য তিন অঙ্কের প্রস্তাব প্রস্তুত রেখেছে দলটি। এএস-এর মতে, রদ্রি ও দিওমান্দের চুক্তি সম্পন্ন হলে ২০১০ সালের চেয়েও বড় বিনিয়োগ হবে এবার।
তবে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেই যে সাফল্য আসে, তা রিয়ালের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা নয়। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ১৮ কোটির বেশি ইউরো খরচ করে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো, ডিন হুইসেন, আলভারো কারেরাস ও ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডকে আনা হলেও এক বছর পর কেউই প্রথম একাদশে জায়গা করে নিতে পারেননি। এমনকি ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে আগেভাগেই আনা আলেক্সান্ডার আর্নল্ড চোট ও ফর্মের কারণে এবারের বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও জায়গা পাননি। এএস মনে করছে, এবারের দলবদল কেবল স্কোয়াড শক্তিশালী করা নয়, বরং আগের বিনিয়োগে ব্যর্থতার পর বড় পরিসরে নতুন করে শুরু করার চেষ্টা।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের সেই বিশাল বিনিয়োগ তাৎক্ষণিকভাবে ফল দেয়নি। প্রথম মৌসুমে ঘরোয়া তিনটি ট্রফির মধ্যে কেবল কোপা দেল রেই জিততে পেরেছিল মরিনিওর দল; লিগ, সুপার কাপ ও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিল বার্সেলোনা।