বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অতিরিক্ত ডিআইজি এবং মাগুরার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। বর্তমানে তিনি ঢাকায় অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে ওএসডি রয়েছেন।

সোমবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু দমন আইন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ এই আদেশ প্রদান করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আজমত হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২০ মে ঢাকার নারী ও শিশু দমন আইন ট্রাইব্যুনালে এক নারী এই মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা গত ১৪ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন মর্মে প্রতিবেদন জমা দেন। আজ শুনানির নির্ধারিত দিনে আসামি উপস্থিত না থাকায় ট্রাইব্যুনাল তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মাগুরার পুলিশ সুপার থাকাকালীন ওই নারীর সঙ্গে আসামির পরিচয় হয়। বিভিন্ন অজুহাতে তাঁকে অফিসে ডেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন জহিরুল। একপর্যায়ে তিনি সাবেক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ওই নারীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাগুরায় সরকারি বাংলোয় ওই নারীকে নাকফুল পরিয়ে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা প্রকাশ করেন আসামি। ওই বছরের ৮ মার্চ বাদী অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হলে জহিরুল নিজেকে তাঁর স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মাগুরার সরকারি বাংলো, অফিস রেস্টরুম এবং ঢাকায় ওই নারীর বাসায় একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি। ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হওয়ার পরও স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখেন বলে মামলায় বলা হয়েছে।

২০২৫ সালের ১৩ জুলাই বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং আইনগত পদক্ষেপ নিলে ক্ষতির হুমকি দেন বলে অভিযোগে জানানো হয়। এই ঘটনায় গত বছরের ১৩ জুলাই পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে লিখিত অভিযোগ এবং ১৫ জুলাই ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ওই নারী। পরবর্তীতে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে সমাধান চেষ্টা ব্যর্থ হলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ ঢাকার জজ আদালতের সামনে আসামি পুনরায় বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।