২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তরের দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত এই প্রশ্নগুলোতে মূলত বিভিন্ন আবাসস্থল এবং প্রাণীদের অভিযোজন প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বনজ আবাসস্থল সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এর উত্তরে বলা হয়েছে, "বনজ আবাসস্থল প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়। যখন কোনো স্থানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা প্রচুর পরিমাণে জন্মায়, তখন সেখানে বনভূমি সৃষ্টি হয়। এই বনভূমিই পরে প্রাণীর আবাসস্থলে পরিণত হয়, যা বনজ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।"

সুন্দরবনের উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, "সুন্দরবনের দুটি উদ্ভিদ হলো— ১. সুন্দরী ও ২. হিজল।" এছাড়া জাতীয় প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে, "আমাদের জাতীয় প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার শুধু সুন্দরবনেই বাস করে।"

মরুজ আবাসস্থলের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উঠে এসেছে— "১. উচ্চ তাপমাত্রা, ২. কম বৃষ্টিপাত, ৩. দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য এবং ৪. শুষ্ক আবহাওয়া।" এই অঞ্চলের উদ্ভিদ হিসেবে খেজুর, ফণীমনসা এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যাকটাসের কথা বলা হয়েছে। তীব্র সূর্যতাপ থেকে বাঁচতে মরুভূমির ছোট প্রাণীদের কৌশল সম্পর্কে বলা হয়েছে, "তীব্র সূর্যতাপ থেকে বাঁচার জন্য মরুভূমির ছোট ছোট প্রাণী দিনের বেলা মাটির নিচে গর্ত খুঁড়ে বসবাস করে।"

মেরু অঞ্চল সম্পর্কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, "পৃথিবীর বরফে ঢাকা অঞ্চলকে মেরু অঞ্চল বলা হয়।" এখানকার উদ্ভিদ হিসেবে আর্কটিক উইলো ও কটন গ্রাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মেরু অঞ্চলের প্রাণীদের টিকে থাকার তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো— "১. তীব্র ঠান্ডায় টিকে থাকার জন্য এদের চামড়ার নিচে পুরু চর্বির স্তর থাকে। ২. এদের দেহ সাদা লোমে ঢাকা থাকায় বরফের সঙ্গে সহজে মিশে গিয়ে আত্মরক্ষা ও শিকার করতে পারে। ৩. এদের লম্বা, বাঁকানো ও শক্তিশালী পা বরফে চলার জন্য অভিযোজিত হয়।"

সামুদ্রিক পরিবেশের অভিযোজন ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, "জলজ পরিবেশের সবচেয়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চল হলো সামুদ্রিক পরিবেশ। এই পরিবেশে প্রাণীদের পানির লবণাক্ততা ও গভীর পানির প্রবল চাপ মোকাবিলা করে বেঁচে থাকতে হয়। সামুদ্রিক মাছের দেহও পানির ঢেউয়ের সঙ্গে চলার জন্য বিশেষভাবে গঠিত। এদের মাথা ও লেজের দিক সরু ও মধ্যভাগ চওড়া হয়। এদের পাখনা ও লেজ সাঁতার কাটতে সাহায্য করে। কিছু সামুদ্রিক মেরুদণ্ডী প্রাণীর ফুসফুস দীর্ঘ সময় বাতাস ধরে রাখতে পারে। অনেক প্রাণী শিকার ও আত্মরক্ষার জন্য আলো, রং ও বিষাক্ত তরল ব্যবহার করতে পারে।"

আবাসস্থলের প্রকারভেদ ও বৈচিত্র্য প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, "যেখানে কোনো জীব স্বচ্ছন্দে বসবাস করতে পারে, তাকেই আবাসস্থল বলে। জীবজগতে প্রধানত দুই ধরনের আবাসস্থল দেখা যায়, যথা—১. স্থলজ ও ২. জলজ আবাসস্থল।"

সুন্দরবনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও সুন্দরীগাছের মূল সম্পর্কে বলা হয়েছে, "সুন্দরবন একটি বনজ আবাসস্থল। এটি নোনা পানির জলাভূমিরও একটি উদাহরণ।" এখানকার প্রাণী হিসেবে রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও হরিণের কথা বলা হয়েছে। সুন্দরীগাছের মূলের অভিযোজন সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, "সুন্দরবনের মাটি লবণাক্ত ও ভেজা হওয়ায় সুন্দরীগাছের মূল প্রয়োজনীয় অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না। তাই কিছু শাখা মূল মাটির ওপরে উঠে আসে। এই ওপরে উঠে আসা মূলগুলোকে শ্বাসমূল বলে, যা বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণে সাহায্য করে।"