স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা নামলেও থামেনি বিতর্ক। ভিসা জটিলতা, রেফারিং এবং শৃঙ্খলাজনিত সিদ্ধান্ত নিয়ে চলমান সমালোচনার মুখে এবার সরাসরি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তার অভিযোগ, ঘৃণা ও মিথ্যা তথ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে সমালোচকরা বিশ্বকাপের প্রকৃত আনন্দ ও ঐক্যের চিত্রটি দেখতে পাননি।
সোমবার প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে ইনফান্তিনো এই আসরকে সফল, নিরাপদ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আয়োজন হিসেবে অভিহিত করেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন।
সমালোচকদের উদ্দেশ্য করে ইনফান্তিনো লিখেছেন, ‘ঘৃণা ও সমালোচনায় এতটাই ডুবে ছিলেন যে সবকিছুই চোখ এড়িয়ে গেছে।’
ফিফা সভাপতির মতে, পর্দার আড়ালে বসে সমালোচনা করা সহজ, কিন্তু ফিফার কর্মীরা মাঠপর্যায়ে কঠোর পরিশ্রম করে বিশ্বের বৃহত্তম এই ক্রীড়া আয়োজনটি সফল করেছেন। পুরো প্রতিযোগিতা চলাকালীন কোনো বড় ধরনের সহিংসতা বা নিরাপত্তাজনিত সমস্যা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে টুর্নামেন্ট চলাকালীন বেশ কিছু ঘটনায় তীব্র চাপের মুখে পড়েছিল ফিফা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বিধিনিষেধের কারণে অনেক দেশ থেকে আসা সমর্থক ও কর্মকর্তারা ভোগান্তির শিকার হন। এমনকি বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের শাস্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্তটি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড পাওয়ার পর তার এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর এই সিদ্ধান্ত আসায় ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এছাড়া আর্জেন্টিনা ও মিসরের ম্যাচের রেফারিং নিয়েও সমর্থক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দেয়।
চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার কথা উল্লেখ না করলেও ইনফান্তিনো যুক্তি দেন যে, ভুল লাল বা হলুদ কার্ড এবং পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো ঘটনা বিশ্বের বড় বড় লিগগুলোতেও নিয়মিত ঘটে। সমালোচকদের দ্বিমুখী আচরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব দেশের লিগে এমন সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া হয়, সেই দেশগুলোই এখন ফিফার সমালোচনা করছে।
রাজনৈতিক সংঘাত ও স্বাস্থ্যসংকটের মধ্যেও ইরান, হাইতি ও গণতান্ত্রিক কঙ্গোর অংশগ্রহণকে ফুটবলের ঐক্য সৃষ্টির শক্তির উদাহরণ হিসেবে দেখছেন ইনফান্তিনো। এসব দেশের অংশগ্রহণকে তিনি ফিফার বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেন।
সবশেষে সমালোচকদের প্রতি কলম ও কিবোর্ড সরিয়ে রেখে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে চিঠিটি শেষ করেন ফিফা সভাপতি।