সংবাদ সম্মেলনের প্রথম প্রশ্নের উত্তরেই প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানান, অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য দল গঠনে তাদের কত হিসাব-নিকাশ করতে হয়েছে। চোটের কারণে হুট করেই পরিবর্তন আনতে হওয়ায় দল সাজানোয় বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়।

এ সময় ভাবনায় ছিল আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে দুটি চার দিনের ম্যাচের সিরিজও। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলে সুযোগ না পাওয়া তাওহিদ হৃদয়, মাহমুদুল হাসান ও মাহিদুল ইসলাম সেখানকার কর্মসূচিতে থাকছেন।

মাহমুদুলের জায়গায় ৫ বছর পর টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন সৌম্য সরকার। ২০২১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। টেস্টে দীর্ঘ বিরতি থাকলেও ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ওপেনারের ফর্ম বেশ ভালোভাবেই বিবেচনায় এসেছে।

জাতীয় ক্রিকেট লিগের সর্বশেষ আসরে ৭ ম্যাচে ৪৫.২১ গড়ে ৬৩৩ রান করে আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন সৌম্য। নির্বাচন প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় যে ধরনের বোলিংয়ের মুখোমুখি হতে হবে, সে অভিজ্ঞতাও তাঁকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে জানানো হয়।

প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বলেন, ‘সৌম্য অনেক দিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছে। যেই পেসটা আমরা অস্ট্রেলিয়াতে প্রত্যাশা করছি, এটা খেলে সে অভ্যস্ত। আমরা অন্য ওপেনারের কথাও ভেবেছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত এই মুহূর্তে আমাদের ডানহাতি ওপেনার খুব বেশি প্রস্তুত অবস্থায় নেই।’

অন্যদিকে, বাদ পড়া মাহমুদুল ওপেনিংয়ে সর্বশেষ ৬ ইনিংসের চারটিতেই আউট হয়েছেন এক অঙ্কের ঘরে। এই সময়ে তাঁর ফিফটিও মাত্র একটি। মাহমুদুলকে বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে হাবিবুল বলেছেন—‘(মাহমুদুল) জয় এত ভালো ফর্মে নেই, তাঁকে দেখে একটু ভালনারেবল মনে হচ্ছে। আমরা চিন্তা করেছি তাঁকে আমাদের ফিরিয়ে আনা দরকার। অস্ট্রেলিয়ায় গেলে হয়তো তার খেলার সুযোগটা একটু কম থাকবে, টিম ম্যানেজমেন্ট হয়তো অন্য কম্বিনেশনে যেতে পারে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের দল ঘোষণা: কারা আছেন, কারা নেই

গত মাসে জিম্বাবুয়েতে একমাত্র টেস্টে অভিষেক হয়েছিল তাওহিদ হৃদয়ের। তবে সেই অভিজ্ঞতা সুখকর হয়নি। দল ম্যাচ হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে, হৃদয় আউট হয়েছে ২ ও ৯ রানে। তাওহিদ হৃদয়ও অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলে নেই।

হৃদয়কে বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যায় হাবিবুল বলেছেন, ‘(জিম্বাবুয়ে টেস্টে না খেলা) মেহেদী হাসান মিরাজ চলে এসেছে, তাওহিদ হৃদয়ের একাদশে ঢোকার সুযোগ কম। কিন্তু আমরা ওকে ভবিষ্যতে টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে চিন্তা করছি। আমাদের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা  সিরিজ আছে। তারা খুব ভালো দল, দুটি চার দিনের ম্যাচ আছে। আমরা আসলে ওকে ওখানে পাঠাব।’

জিম্বাবুয়ে টেস্টের দলে থাকলেও একাদশে সুযোগ হয়নি মাহিদুল ইসলামের। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের স্কোয়াডে না থাকা এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানকেও ‘এ’ দলের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান জাকের আলী। গত বছর জুনে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন তিনি।

জাকের আলীকে ফেরানো প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচকের ব্যাখ্যা, ‘জাকের আলী কিন্তু টেস্ট ম্যাচ যখন খেলছিল খারাপ খেলছিল না। যখন দল থেকে বের হয়ে গেছে ওই সময় ফর্ম নিয়ে লড়াই করছিল। আমাদের ইচ্ছা ছিল (হাই পারফরম্যান্সের) খেলাগুলো খেলে আবার ফিরে আসুক কারণ মানসিক অবস্থাও খুব একটা ভালো ছিল না।’ হাই পারফরম্যান্সের ভালো করেই জাকের আবার জাতীয় দলে ফিরেছেন বলে মনে করেন হাবিবুল।

আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ, ম্যাকাইতে পরের ম্যাচ ২২ আগস্ট। অন্যদিকে ১৬ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিংয়ের বিপক্ষে প্রথম চার দিনের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল, দ্বিতীয় ম্যাচটি শুরু হবে ২৩ আগস্ট।