আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং’ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার দাবি, নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় পরিচয়ের ব্যক্তিদের বসানোর চেষ্টা চলছে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
রোববার (২৬ জুলাই) রাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় এনসিপির ‘জুলাই পথযাত্রা’ কর্মসূচির পথসভায় এসব কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, "আমরা বুঝে গিয়েছি, তারেক রহমানকে দিয়ে বাংলাদেশ পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমি আপনাদের লিখে দিয়ে গেলাম, আজকের এই কথা ছয় মাস পরে আপনারা আমাদের মনে করবেন।"
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় পরিচয়ের ব্যক্তিদের বসানো হলে নির্বাচন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হবে। তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপির নেতৃত্বে ‘খারাপ লোকেরা’ জায়গা করে নিয়েছে এবং তাদের উপজেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির এই নেতা বলেন, "তারেক রহমান তার পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করবেন। কিন্তু ভালুকার একটি সন্তানের ভাগ্য পরিবর্তন করবেন না। আপনার সন্তানের ভাগ্য পরিবর্তন আপনাকেই করতে হবে।" একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের মাদক, জুয়া, চোরাচালান ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগের বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, "সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে, আওয়ামী লীগের বিচার না হলে এবং জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা হলে এনসিপি যে কোনো সরকারের বিরুদ্ধেই আন্দোলন থেকে বিরত থাকবে না।"
ওই পথসভায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ভালুকার বর্তমান সংসদ সদস্য ফখরউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা, চাঁদাবাজি, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা এবং ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তোলেন। সারজিস আলম বলেন, একসময় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়া ওই নেতাকেই পরে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তারা বহিষ্কারের নাটক করে, আবার মনোনয়ন দিয়ে সংসদে নেয়। ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির যেসব নেতাকর্মী ওই নেতার অনুসারী নন, তাদের ওপর হামলা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া বিএনপি নেতা ও সাবেক বনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধে বনভূমি দখল ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে সারজিস আলম বলেন, যে ব্যক্তি এই এলাকার সবচেয়ে বেশি বন দখল করেছে, তাকে কোনোভাবেই মন্ত্রী করা উচিত হয়নি। এই বিষয়ে তারেক রহমানেরও রাজনৈতিক দায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ, কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. জাহেদুল ইসলাম, ময়মনসিংহ জেলা আহ্বায়ক এ টি এম মাহবুব উল আলম, সদস্য সচিব মো. জসিম উদ্দিন, ভালুকা উপজেলা আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন এবং উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম।